রাজশাহীর তানোরে অপারেশন সমাপ্ত, ৮ জঙ্গি রিমান্ডে…

বাংলানিউজ ইউকে ডটকমঃ রাজশাহীর তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে জঙ্গি আস্তানা ঘিরে রাখার ২২ ঘণ্টা পর অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার রাত সোয়া ১১টার দিকে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা পর পর তিনটি শক্তিশালী বোমা নিষ্ক্রিয় করার পর এ অভিযান শেষ হয়।

পরে রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নিশারুল আরিফ রাতেই ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের কাছে ব্রিফিং করে অভিযানটিকে অপারেশন ‘রিবার্থ’ নামে ঘোষণা দেন।

সেখান থেকে বেশ কিছু জিহাদী বই, সিডি ও টাকাসহ বিভিন্ন বিস্ফোরকদ্রব্য উদ্ধার করে সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে থানায় মামলা করেছে পুলিশ।
এতে নারীসহ ৮ জনকে আসামি দেখানো হয়েছে। তানোর থানার পিএসআই জাহেদুল ইসলাম খন্দকার বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন- বাড়ির মালিক ও উপজেলার গৌরাঙ্গপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রমজান আলী (৫৬), তার স্ত্রী আয়েশা বেগম (৪৮), তাদের দুই ছেলে ইব্রাহীম হোসেন (৩১) ও ইসরাফিল হোসেন (২৫), তার স্ত্রী রুমেসা বেগম (২০), ইব্রাহিমের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন (২৮), রমজানের মেয়ে হাওয়া খাতুন (২০) এবং তার স্বামী রবিউল ইসলাম (২৬)। পুলিশ বলছে- এরা সবাই নব্য জেএমবিতে যোগ দিয়েছিল।

মুন্ডুমালা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর সিদ্দিকুর রহমানকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বভার দেয়া হয়। দায়িত্ব পেয়ে আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে রাজশাহীর ৩নং আমালী আদালতে হাজির করা হলে তা মঞ্জুর করেন আদালতের বিচারক সাইফুল ইসলাম।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আটক জঙ্গির মধ্যে ইসরাফিলের স্ত্রী রুমেসা বেগমের বড় দুলাভাই কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী থানার সাদিপুর শিলাদহ গ্রামের রেজাউল করিমের পুত্র আব্দুস সবুর খাঁন ওরফে সোহেল ওরফে মাহফুজ (সাংগঠনিক নাম) দেশের কুখ্যাত জঙ্গি।

তার মাধ্যমে ইসরাফিলের পরিবার নব্য জঙ্গি খেলাফতের দাওয়াত পায়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জন জঙ্গি বিভিন্ন সময়ে ইসরাফিলের বাড়িতে যাতায়াত করতো এবং জিহাদ সম্পর্কে বোঝাতো। এতে করে সুইসাইডাল ভেস্ট তৈরি সম্পর্কে তারা ধারণা পায়।

এদিকে, মঙ্গলবার দুপুরে থানা পুলিশ ও জেলা সিআইডির ক্রাইম ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে জঙ্গি আস্তানার বিভিন্ন মালামাল ও জমির কাগজপত্র উদ্ধার করে স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিনের জিম্মায় দেন।

তিনি দায়িত্ব পেয়ে তালাবদ্ধ করে দেন বাড়িটি। এরআগে ১৩ জুন দিবাগত রাতে সুইসাইডাল বোমা নিষ্ক্রিয় করার সময় বিকট শব্দে প্রকম্পিত হয়ে উঠে পুরো এলাকা। এতে জঙ্গি বাড়ির দোতলার বারান্দায় টিনের ছাউনি উঠে যায় এবং মাটির ওয়াল ভেঙ্গে পড়ে।

এদিকে, ডাঙ্গাপাড়া জঙ্গি বাড়ি আস্তানা দেখার জন্য মঙ্গলবার সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকার মানুষের ঢল নামে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রমজান আলীর পুরো পরিবার বেশ কয়েক বছর আগ থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা, ঈদসহ ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করতো।

প্রসঙ্গত, গত রোববার গভীর রাতে বগুড়া জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও রাজশাহী জেলা পুলিশ রমজানের বাড়ি ঘিরে অভিযান চালায়। সেখান থেকে চার শিশুসহ ১২ জনকে আটক করে পুলিশ।

শেয়ার করুন