ইংল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে উঠেছে পাকিস্তান

খেলাধুলা ডেস্কঃ গ্রুপ পর্বের অপরাজিত দল ইংল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে উঠেছে পাকিস্তান। বোলিংয়ে হাসান আলি, জুনায়েদ খান, রুম্মান রাইসের ঘূর্ণির পর ব্যাট হাতে বাকিটুকু সেরেছেন আজহার আলি ও ফখর জামানরা।

কার্ডিফে আজ প্রথম সেমি-ফাইনালে ৭৭ বল হাতে রেখে ইংল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে সরফরাজের দল। টুর্নামেন্টে পাকিস্তান এসেছে আন্ডারডগের তকমা নিয়ে। এই টুর্নামেন্টের আট দলের মধ্যে সবার নিচে ছিল পাকিস্তান। কেউ গোনায় ধরেনি এই পাকিস্তানকে।

গ্রুপ পর্বেই তাঁদের এবারের যাত্রা শেষ ধরে নেওয়া হচ্ছিল। ভারতের কাছে বিশাল ব্যবধানের পর এ ব্যাপারে সবাই আরও নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। শ্রীলঙ্কার কাছে তো হারতে হারতে ম্যাচ জিতল। কিন্তু আজ সেমিফাইনালে সবাইকে সব সমালোচনার জবাব দিল পাকিস্তান। এ টুর্নামেন্টে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স দেখিয়ে ইংল্যান্ডকে ছিটকে দিয়েছে তারা।

২০০৩ সালের বিশ্বকাপের পর পাকিস্তানের বিপক্ষে আইসিসির কোনো ওয়ানডে টুর্নামেন্টে খেলেনি ইংল্যান্ড। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তো খেলল প্রথমবারের মতো।

আগের ম্যাচে কাছাকাছি লক্ষ্য তাড়ায় তালগোল পাকিয়ে হারতে বসেছিল পাকিস্তান। এবার ২১২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ফল নিয়ে অনিশ্চয়তা এক রকম শেষ করে দেয় আজহার-জামানের শতরানের জুটি। আদিল রশিদের বলে স্টাম্পড হয়ে ফেরার অাগে ৫৭ রান করেন ফখর।

দ্বিতীয় উইকেটে বাবর আজমের সঙ্গে ৫৫ রানের জুটিতে ফাইনালের পথে দলকে আরও এগিয়ে নেন আজহার। শতকের পথে থাকা উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ফিরেন জেইক বলের স্লোয়ার বলে বোল্ড হয়ে। ১০০ বলে খেলা ডানহাতি ব্যাটসম্যানের ৭৬ রানের ইনিংসটি গড়া ৫টি চার ও একটি ছক্কায়।

জস বাটলারের ব্যর্থতায় ১ রানে জীবন পাওয়া মোহাম্মদ হাফিজকে নিয়ে বাকিটুকু সহজেই সেরেছেন বাবর আজম। চার হাঁকিয়ে দলকে ফাইনালে নিয়ে যাওয়া টপ অর্ডার এই ব্যাটসম্যান অপরাজিত থাকেন ৪২ রানে। তার সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ৪২ রানের জুটিতে হাফিজের অবদান ২৭ রান।

এর আগে ইংল্যান্ডের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে ৩৪ রানেই। ভাগ্যকে পাশে পাওয়া বেয়ারস্টো ছিলেন অর্ধশতকের পথেই। ‌আজহার আলিকে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যাওয়া ডানহাতি ব্যাটসম্যানকে ফেরান হাসান। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে প্রথমবারের মতো খেলতে নেমে ৫৭ বলে ৪টি চারে ৪৩ রান করেন বেয়ারস্টো।

দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে হারানো ইংল্যান্ডকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন দলের সেরা দুই ব্যাটসম্যান জো রুট ও ওয়েন মর্গ্যান। লেগ স্পিনার শাদাব খানের বলে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যাওয়া অধিনায়ককে নিয়ে দলকে দৃঢ় অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছিলেন রুট।

শাদাবের বলে কাট করতে গিয়ে রুট সরফরাজের গ্লাভসবন্দি হলে ভাঙে ইংলিশদের সেরা জুটি। ৫৬ বলে মাত্র দুটি চারে ৪৬ রান করে ফিরেন ডানহাতি টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। তৃতীয় উইকেটের ৪৮ ছাপিয়ে যেতে পারেনি আর কোনো জুটি। রুটের ৪৬ রানকে পেছনে ফেলতে পারেননি আর কেউ।

হাসানকে তেড়েফুড়ে মারতে গিয়ে সরফরাজের গ্লাভস বন্দি হন মর্গ্যান। ইংল্যান্ডের হয়ে ৫ হাজার রানের মাইলফলকে পৌঁছানোর দিনে বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান ফিরেন ৩৩ রান করে।

দলের বিপদের সময় ডানা মেলতে পারেননি জস বাটলার, মইন আলি। শেষের দুই ভরসাকে বিদায় করেন জুনায়েদ। বদলি ফিল্ডার আহমেদ শেহজাদের দারুণ থ্রোয়ে রান আউট হয়ে বিদায় নেন আদিল রশিদ।

স্বভাব বিরুদ্ধ ব্যাটিংয়ে দলকে দুইশ রানে নিয়ে যান অলরাউন্ডার বেন স্টোকস। বিস্ফোরক এই ব্যাটসম্যান পড়ে ছিলেন মাটি কামড়ে। হাসানের স্লোয়ার উড়ানোর চেষ্টায় ফিরেন ৩৪ রান করে। তার ৬৪ বলের ইনিংসে নেই কোনো চার-ছক্কা!

এরপর বেশিদূর এগোয়নি ইংল্যান্ডের ইনিংস। এক বল বাকি থাকতেই স্বাগতিকরা গুটিয়ে যায় ২১১ রানে।

শেয়ার করুন