সাতক্ষীরায় চাল বিতরন অনিয়মের অভিযোগে চেয়ারম্যানসহ ৯ সদস্যের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

বাংলানিউজ ইউকে ডটকমঃ সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায়  চাল বিতরন অনিয়মের অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানসহ নয় সদস্যের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা দায়ের করেন।

যানা জায়, খাদ্যশস্য নীতিমালা অনুসরন না করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে হতদরিদ্র জনগনকে বাদ রেখে  আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ৪৬ জন ব্যক্তিকে তালিকাভুক্ত করে ১০টাকা কেজি চাল বিতরন করায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে।  ।

গত বুধবার কালিগঞ্জ থানায় ,দুর্নীতি দমন কমিশন খুলনার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ সহকারি পরিচালক রাজ কুমার সাহা বাদি হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন।

এ মামলার আসামীরা হলেন, চম্পাফুল ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক গাইন, ইউপি সদস্য গোলাম কাইয়ুম, আব্দুর রশিদ গাইন, মো. আবু বক্কর গাইন, মো আব্দুস সাত্তার খান, মো. আবু বক্কর, ঠাকুর দাস সরকার, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রাধা রানী অধিকারী, রাফেজা খাতুন ও শ্যামলী রানী সরকার।

এ দিকে দু’দকের মামলার খবর পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও বর্তমান চম্পাফুল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজাম্মেল হক গাইনসহ অপর আসামীরা  আত্মগোপন করেন।

তবে ইউপি সদস্য ঠাকুরদাস সরকার বলেন, দু’দক বড্ড বেরসিক তাই ঈদের আগে এমন মামলাটি করলো।

মামলার বিবরণে জানা যায়, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিতকল্পে সরকারি বিতরণ ব্যবস্থার আওতায় পল্লী অঞ্চলের হত দরিদ্র জনসাধারণকে স্বল্পমূল্যে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার জন্য সরকার কর্তৃক খাদ্যশস্য বিতরণ নীতিমালা, ২০১৬ প্রণয়ন করা হয়।

এরই আলোকে ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলায়  দরিদ্রদের জন্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ১০টাকা কেজি দরে মাসিক ৩০কেজি হারে (পরিবার প্রতি) চাল বিতরন নীতিমালার আওতায় ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যগণ এক হাজার ২৫৩ জন হত দরিদ্রের নামের তালিকা উপজেলা পরিষদে জমা দেন। ইউপি চেয়ারম্যান, ছয়জন ইউপি সদস্য ও তিনজন সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য পরস্পর যোগসাজসে নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যবসায়ি, চাকুরিজীবী, ধনী এমন ৪৬জন আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ব্যক্তিকে তালিকাভুক্ত করে ৪১ হাজার ৪০০ টাকা মূল্যের চার হাজার ১৪০ কেজি চাল আত্মসাৎ করেন।

যা  দণ্ডবিধি  ৪০৯/৪২০/১০৯ তৎসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ নভেম্বরের মধ্যে এসব অপরাধ সংগঠিত হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চম্পাফুল ইউপি চেয়ারম্যান মোজ্জাম্মেল হক গাইন বলেন, মামলার কপি না পেলে কোন মন্তব্য করা যাবে না।

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লস্কর জায়াদুল হক জানান,  মামলার তদন্তভার দুদকের উপর ন্যস্ত করা হয়েছে। তবে আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

শেয়ার করুন