ভারতে ২২ বছরের এক যুবকের নারীর জননতন্ত্রের অস্ত্রোপচার

বাংলানিউজ ইউকে ডটকমঃ ভারতে ২২ বছরের এক যুবকের শরীরে পাওয়া গেছে নারীর জননতন্ত্র! পরে চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জরায়ু, ডিম্বাশয় ও গর্ভাশয় কেটে ফেলে দেন।

ভারতের রাজস্থান রাজ্যের উদয়পুরে জিবিএইচ আমেরিকান হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটেছে। সেখানেই ওই যুবকের চিকিৎসা চলছে। ধীরে ধীরে তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন। সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেই বিয়ে করারও পরিকল্পনা আছে তার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সম্প্রতি উদয়পুরে জিবিএইচ আমেরিকান হাসপাতালে আনডিসেনডেড টেস্টিকলসের চিকিৎসা করাতে আসেন ওই যুবক। এ সময় চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তার শরীরে জরায়ু, ডিম্বাশয়ের ও গর্ভাশয়ের অস্তিত্ব পান। পরে গত বুধবার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তা শরীর থেকে সফলভাবে অপসারণ করা হয়। জ্যেষ্ঠ স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ শিল্পা গয়াল ও ইউরোলজিস্ট মনীশ ভাট যৌথভাবে এ অস্ত্রোপচার করেন।

স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ শিল্পা গয়াল জানান, ‘আমার চিকিৎসক জীবনে এ ধরনের অস্ত্রোপচার এটাই প্রথম। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত এ ধরনের প্রায় ৪০০টি ঘটনা আছে। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হওয়ায় নারী শরীরে অস্ত্রোপচার করাটা সহজ। কারণ, নারী শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সম্পর্কে বেশ ধারণা আছে। কিন্তু একজন পুরুষের শরীরে অস্ত্রোপচার করে জরায়ু অপসারণ করাটা চ্যালেঞ্জ ছিল।’

ওই যুবক পারসিসটেন্ট মুলেরিয়ান ডাক্ট সিনড্রোমে (পিএমডিএস) আক্রান্ত ছিলেন। এ রোগে আক্রান্ত পুরুষের শরীরে একই সঙ্গে নারী ও পুরুষ দুই জননতন্ত্রই থাকে। পুরুষের শরীরে নারী জননতন্ত্র থাকলেও তাদের ক্রোমোজম ও যৌনাঙ্গ পুরুষদের মতোই থাকে।

শিল্পা গয়াল আরও বলেন, আনডিসেনডেড টেস্ট ও মাংশল হার্নিয়ার উপস্থিতি এই রোগের প্রথম লক্ষণ। ওই যুবকের চিকিৎসার সময় প্রথমে জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউবের (ডিম্বাশয় থেকে গর্ভে ডিম্বাণু চলাচলের টিউব) উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ১৮ মাস থেকে ২৯ বছর বয়সী যুবকের শরীরে এ ধরনের অস্বাভাবিকতা থাকলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তার চিকিৎসা করানো সম্ভব।

ওই যুবকের জন্মের পর থেকেই আনডিসেনডেড টেস্টিকলস রোগের বিষয়টি তার মা-বাবা জানতেন। এত দিন পর তারা চিকিৎসা করাতে এসেছেন। এখন সুস্থ হলেই ছেলেকে বিয়ে দিতে চান তারা।

শেয়ার করুন