জেনে নেয়া যাক হৃদরোগের লক্ষণগুলো

বাংলা নিউজ ইউকে ডটকমঃ হৃদপিণ্ডের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া মানে সোজা মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া। সুতরাং এ নিয়ে হেলাফেলার কোনো সুযোগ নেই। সময়ে না খাওয়া, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব, খাদ্যাভ্যাস, দুশ্চিন্তা, অবসাদ, ক্লান্তি ইত্যাদি নানা কারণে হৃদপিণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়।

হৃদরোগের মতো গুরুতর সমস্যার কিছু বিশেষ লক্ষণ রয়েছে, যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। চলুন জেনে নেয়া যাক লক্ষণগুলো:

# মাথা ঘোরানো
অনেক সময় না খেলে, ঠিকমতো বিশ্রাম না নিলে মাথা ঘোরাতে পারে। তবে যদি এই সমস্যা বেশ কিছুদিন স্থায়ী হয় এবং এর সঙ্গে শ্বাস নিয়ে সমস্যা ও বুকে অস্বস্তি হয় তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

# বুকে অস্বস্তি
হৃদরোগের প্রাথমিক ধাপের একটি হলো বুকের ভেতরে অস্বস্তি। বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভব করতে পারেন। ধমনীতে কোনোভাবে রক্ত চলাচল আটকে গেলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। যার আগাম সংকেত দেয় বুকে ব্যথা।

# বাঁ হাতে ব্যথা
অনেক সময়ে বুক থেকে ব্যথা বাঁ হাতে চলে যায়। হার্টের সমস্যায় এটিও ইঙ্গিতবাহী।

# অনিয়মিত হৃদস্পন্দন
যদি লক্ষ্য করেন হৃদস্পন্দনের গতির হেরফের হচ্ছে, সামান্য কাজ করতে গিয়েও হাঁফিয়ে উঠছেন, তাহলে সাবধান। সঙ্গে সঙ্গে দেরি না করে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞকে দিয়ে একবার পরীক্ষা করে নিন।

# অত্যধিক নাক ডাকা
অনেকেই ঘুমের মধ্যে নাক ডাকেন। তবে যদি দেখেন আপনার আপনজন কেউ ঘুমের মধ্যে নিয়মিত অত্যধিক পরিমাণে নাক ডাকছেন, তাহলে সতর্ক হোন। কেননা এর মানে হলো, ঘুমের সময় ঠিকমতো শ্বাস-প্রশ্বাস চলছে না। যে কারণে হার্টকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হচ্ছে।

# গলা ও চোয়াল ব্যথা
গলা বা চোয়াল ব্যথার অন্য কারণ হতেই পারে। তবে বুক থেকে ব্যথা গিয়ে চোয়াল বা গলায় আটকালে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

# অতিরিক্ত ঘাম
পরিশ্রম করছেন না, কিন্তু তাও হঠাৎ হঠাৎ খুব ঘামছেন। এটাও অন্যতম লক্ষণ।

# শ্বাসকষ্ট
ঘনঘন শ্বাসকষ্ট হলে অবশ্যই সাবধান হওয়া জরুরি। সামান্য চলাফেরা বা হাঁটাহাঁটিতে, সিঁড়ি বেয়ে দু-তিন তলায় উঠতে গেলে, অজু, গোসল ও নামাজ পড়তে গেলে, পেট ভরে খাওয়ার পর, বিছানায় শুতে গেলে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে পড়েন, কারও কারও রাতে ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্ট হওয়ায় ঘুম ভেঙে যায়।

এসব পরিস্থিতিতে আর দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

শেয়ার করুন