‘সৌদি যুবরাজ ইয়েমেন যুদ্ধ থেকে সরে আসতে চান’

বাংলা নিউজ ইউকে ডটকমঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত দুইজন কর্মকর্তা বলছেন, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তাদেরকে বলেছেন, তিনি ইয়েমেন যুদ্ধ থেকে সরে আসতে চান, এ দ্বন্দ্বের অবসান চান। ৩১ বছর বয়স্ক সৌদি যুবরাজ এও আশ্বাস দিয়েছেন, তার দৃষ্টিতে ইরানের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গেই থাকবেন। মিডিল ইস্ট আই এধরনের খবর প্রকাশ করে বলছে, ই-মেইল ফাঁস থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

দুই বছর ধরে ইয়েমেন থেকে পলাতক প্রেসিডেন্ট আব্দে মানসুর হাদি’কে পুনরায় দেশটির ক্ষমতায় বসাতে চায় সৌদি আরব। ইয়েমেনের একাংশ এখনো তার নিয়ন্ত্রণে এবং বাকি অংশে বিদ্রোহীরা লড়াই করে যাচ্ছে। সৌদি আরবের উত্তরাধিকারী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান কাতারের বিরুদ্ধে সৌদি জোটের অবরোধ আরোপের এক মাস আগে ইয়েমেন যুদ্ধ থেকে বের হয়ে আসার কথা বলেছেন তিনি। ওয়াশিংটন ডিসি’তে নিযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ আল-কাতিবার একটি ইমেইলে সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুবরাজ সালমানের বৈঠকের বিস্তারিত বিবরণ দেয়া হয়। মিডল ইস্ট আই বলেছে, গ্লোবাললিকস নামের একটি গোষ্ঠী ইমেইলটি ফাঁস করেছে।

২০১৫ সালের ২৬ মার্চ সৌদি জোট নাটকীয় ভাবে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে বিমান আগ্রাসন শুরু করে। এপর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি নিরীহ ইয়েমেনি নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি হারা হয়েছে। আহত হয়েছে ৪০ হাজার মানুষ। যোগাযোগ অবকাঠামো ভেঙ্গে পড়ায় খাদ্য ঘাটতি, বিশুদ্ধ পানির অভাবে ইতিমধ্যে ৫ লক্ষাধিক মানুষ কলেরায় আক্রান্ত হয়েছে।

সৌদি যুবরাজ ইসরায়েলে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্টিন ইন্ডিক ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা স্টিফেন হ্যাডলিকে তার ইয়েমেন যুদ্ধ থেকে সরে আসার কথা জানান। ইয়েমেনের দুই তৃতীয়াংশ মানুষ এখন মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে এবং তাদের মানবিক সাহায্য প্রয়োজন। দেশটির ৭০ লাখ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে। ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসন শুরু করার আগে জাতিসংঘের কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি।

ইমেইল ফাঁসে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, ওয়াশিংটন ডিসি’তে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ আল-কাতিবার সঙ্গে ইসরায়েলে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্টিন ইন্ডিক যুবরাজ সালমানের নেতৃত্বের গুণাবলী নিয়ে আলোচনা করছেন। গত ২০ এপ্রিল সকাল ১০ টা ১৭মিনিটে তারা ইমেইলে তথ্য আদান প্রদানের সময় একমত হন সৌদি যুবরাজকে বেশ ‘প্রাগমেটিক’ বলেই মনে হয়। এর ২৭ মিনিট পর মার্টিন ইন্ডিক লেখেন, সৌদি যুবরাজের নেতৃত্বের ব্যাপারে আমারও একমত। এবং যুবরাজ ইয়েমেন যুদ্ধ থেকে বের হয়ে আসতে চাচ্ছেন। ইরানের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলের অংশীদার হিসেবে তিনি নিজেকে ব্যাপৃত রাখবেন।

এর উত্তরে, আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ আল-কাতিবা বলেন, আমার মনে হয় না সৌদি আরবে এমন কোনো যোগ্য নেতা দেখতে পাব। তবে তাদের সান্নিধ্যে থাকাও গুরুত্বপূর্ণ যাতে ভবিষ্যতে ভাল ফল পাওয়া যায়। এ পর্যায়ে আশ্বাস দিয়ে ইন্ডিক লেখেন, আমরা আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।

এদিকে ইয়েমেনের পলাতক প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মানসুর হাদি সম্পর্কে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান পুরোপুরি ভরসা রাখতে পারছেন না। তিনি রিয়াদে আছেন। ইয়েমেনের এডেন বিমানবন্দর তার নিয়ন্ত্রণে থাকায় জরুরি ত্রান সাহায্য দেশটিতে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

তবে ইন্ডিক কিংবা ইউসেফ আল-কাতিবা দুজনেই মিডিল ইস্ট আই ডটনেটের কাছে তাদের ইমেইল ফাঁসের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন।

শেয়ার করুন