ফেইসবুকে প্রতারনার ফাঁদে উঠতি বয়সী তরুণরা : কাঁদছে সজল, নেপথ্যে থাকা কে এই অর্পিতা

জাহেদুল ইসলামঃ ফেইসবুকে এক প্রতারনার ফাঁদে পরে নাকাল হচ্ছে সিলেট থেকে শুরু করে ঢাকা শহরসহ বাংলাদেশী উঠতি বয়সী তরুণরা, অর্পিতার ফাঁদে পড়ে কাদছে সিলেটের সজল। এবিষয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। মূলত উঠতি বয়সী কিছু নামধারী মডেলরা জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক কে ব্যাবহার করে এই প্রতারণার ফাঁদ গুলো তৈরি করছে এবং এর স্বীকারে পরিণত হচ্ছে তরুণরা।
অনুসন্ধানে জানা যায় অর্পি অর্পিতা নামে একটি ফেইসবুক আইডি থেকে এক তরুণী ছদ্মবেশে বিভিন্ন সময়ে কিছু ভিডিও আপলোড করে এবং এইসব ভিডিও থেকে সে যৌন উত্তেজক কথাবার্তা বলে। পাশাপাশি তাকে পাওয়ার জন্য একপ্রকার এর আহবান জানিয়ে থাকে ভিডিও বার্তা গুলো তে। এইসব ভিডিও বার্তায় সে তাঁর বিভিন্ন কাজের রেট নির্ধারণ করে দেয়, যেমন ইমুতে সেক্স করার জন্য তাঁর ডিমান্ড দুই হাজার টাকা। আবার সরাসরি শারীরিক সম্পর্কে যেতে চাইলে তাঁর রেট নির্ধারণ করে দেয় ছয় হাজার টাকা। অনলাইন পত্রিকার অনুসন্ধানে জানা যায় সে তাঁর নিজের ফেইসবুক আইডি দিয়ে নির্দিষ্ট কাউকে টার্গেট করার পর ইনবক্সে যোগাযোগ করে, বিভিন্ন ভাবে মন ভুলানো কথাবার্তা বলে। মন ভুলানো কথাবার্তায় নির্দিষ্ট তরুণ কে বশে এনে তাঁর নিজের একটি বন্ধ থাকা বিকাশ নাম্বার দিয়ে (01969255231) বিভিন্ন সময় উঠতি বয়সী তরুণদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়। এই মোবাইল নাম্বার টি ইমুতে অনিক নামে ইস্যু করা আছে। তাঁর কথায় বিশ্বাস করে তাঁর দেয়া বিকাশ নাম্বারে টাকা পাঠানোর পর সে ওইসব তরুনদেরকে ফেইসবুকে আবার ব্লকও করে দেয়। ব্লক করার আগে সে কিছু কৌশল এর আশ্রয় গ্রহণ করে। টাকা পাওয়ার সাথে সাথে ব্লক করে আবার কোনও কোনও ক্ষেত্রে সুবিধা মতো অর্থ আদায়ের পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
এইভাবে গত ত্রিশ মাসে কমপক্ষে দুই শতাধিক তরুণ যুবকরা তাঁর স্বীকারে পরিণত হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। অনুসন্ধানে আরও জানা যায় এই মডেল নামধারী অর্পি অর্পিতার নেতৃত্বে রয়েছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। যাদের কাজই হলো ফেইসবুক কে ব্যাবহার করে নিরীহ তরুণদের স্বীকারে পরিণত করা। কেউ যদি তাঁর এই প্রতারণার প্রতিবাদ করার চেষ্টা করে সঙ্গে সঙ্গে সে তাঁর প্রতারক চক্রের পুরুষ সদস্যদের মাধ্যমে হুমকি দেয়ায়। তাঁর হয়ে সেসব তরুণরা প্রতিবাদকারীদের বিভিন্ন ভাবে বিপদে ফেলতে নানা অপকর্ম ঘটায়।
অর্পিতা সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা যায় মডেলিং এর আড়ালে সে মূলত দেহ ব্যাবসা এবং ইয়াবা ব্যাবসা পরিচালনা করে, এমনকি সে নিজেও নিয়মিত ইয়াবা সেবন করে থাকে। তাঁর চক্রের নেটওয়ার্ক এতটাই লম্বা এবং শক্তিশালী যে কক্সবাজার থেকে সরাসরি ইয়াবা কিনে বিভিন্ন কৌশলে ঢাকা শহরে নিয়ে আসে। তাছাড়া ফেসবুকে অর্পিতা খোলামেলা ছবি পোষ্ট করে মূলত তরুণদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য। এই সুযোগে তরুণদের সাথে ফেইসবুকের ইনবক্সে কথাবার্তা বলে ইমু সেক্স করার প্রস্তাব দেয় এবং টাকা ছাড়া সে কোনওভাবেই নাম্বার দিতে রাজি হয়না।
জানা যায় অর্পিতার রয়েছে একাধিক ভুঁয়া ছদ্মবেশী ফেইসবুক আইডি। যেগুলো মূলত তাঁর সাঙ্গপাঙ্গরাই চালিয়ে থাকে। এই ধরনের প্রতারণার খপ্পরে পড়া একজন ছদ্মনাম (সজীব চক্রবর্তী) সাংবাদিক কে জানান- অল্প কয়দিনের পরিচয়ে অর্পিতা বিভিন্ন অযুহাতে এক লাখ টাকার মতো গ্রহণ করেছে। আমি তাকে বিশ্বাস করেই টাকা দিয়েছিলাম বিনিময়ে আমার চাওয়া পাওয়া সে পুরন করবে বলে কথা দিয়েও টাকা নেয়ার পর থেকে তাকে আর খুজেঁ পাওয়া যাচ্ছে না।তাঁর ব্যাক্তিগত মোবাইল নাম্বারও বন্ধ রয়েছে।আপনাদের এই রিপোর্ট এর মাধ্যমে তরুণ সমাজের প্রতি আমার একটাই অনুরোধ এই ধরনের প্রতারক চক্র থেকে নিজেদের সবসময় নিরাপদ রাখুন। কিন্তু আপনাদের কাউকেই যাতে আর এই অর্পিতা অর্পির প্রতারণার জালে ধরা পরতে না হয় সেবিষয়ে সতর্ক থাকবেন।
এদিকে অর্পিতা অর্পির মতো ছদ্মবেশী বেশকিছু মহিলাদের ফেইসবুক আইডি একটি টিম চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে। উক্ত বিষয় নিয়ে পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখায় যোগাযোগ করা হলে তাঁরা জানিয়েছেন কোনও ভুক্তভোগী সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সহকারে আমাদের দপ্তরে অভিযোগ আকারে জানালে আমরা অবশ্যই তাঁর বিষয় নিয়ে খোঁজ খবর নিব এবং তাকে আইনের মুখোমুখী করার চেষ্টা করবো।
শেয়ার করুন