সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ শাহজালাল সারকারখানায় প্রথম বছরেই ২১৮ কোটি টাকা লোকসান

রাজা সায়মনঃ প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে নির্মিত শাহজালাল সার কারখানায় গত অর্থবছর থেকে উৎপাদন শুরু হয়। প্রথম বছরেই উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে এ কারখানায়। তবে উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলেও ২১৮ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে গ্যাসভিক্তিক এই সারকারখানায়।

গত অর্থ বছরে শাহজালাল সারকারখানায় ইউরিয়া উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৩লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন। বছর শেষে উৎপাদন হয়েছে ৩লাখ ৯৩ হাজার মেট্রিক টন। সার বিক্রি করে আয় হয় ৫৫০ কোটি টাকা। অন্যান্য খাতে আয় হয় আরও ১০ কোটি টাকা। ৫৬০ কোটি টাকা আয়ের বিপরীতে গত অর্থবছরে এই কারখানার ব্যয় হয় ৭৭৮.১৪ কোটি টাকা। ফলে প্রথম বছরেই ২১৮.১৪ কোটি টাকার বিশাল লোকসানে পড়েছে দেশের বৃহৎ এই সারকারখানা।

নতুন প্রতিষ্ঠিত একটি কারখানায়, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়া সত্ত্বেও এতো বড় অংকের লোকসানকে অস্বাভাবিক বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়া সত্ত্বেও বড় অংকের লোকসানের ব্যাপারে শাহজালাল সারকারখানা লিমিটেডের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুল ইসলাম বলেন, অবচয় (ডেপ্রিসিয়েশন) ব্যয়, চীনের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ, চীনা বিশেষজ্ঞদের বেতন ভাতা প্রদান এসব কারণে আমাদের ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। ফলে বড় ধরণের লোকসান গুণতে হয়েছে।

তিনি বলেন, এরকম বড় কোম্পানিকে লাভে আসতে ১৫/২০ বছর সময় লেগে যায়। দেশে যেহেতু চাকরীর সঙ্কট রয়েছে। তাই মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য হলেও সরকার লোকসান দিয়েও এসব প্রতিষ্ঠান চালু রাখে।

কারখানার হিসাব শাখা সূত্রে জানা যায়, গত অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয় অবচয় খাতে। এই খাতে ব্যয় ১৯৪ কোটি টাকা। চীনের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি সুদসহ গত অর্থবছরে পরিশোধ করা হয় ১২০ কোটি টাকা।

কারখানা সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, চীনের সাথে প্রথমে চুক্তির সময়ে কারখানায় উৎপাদন শুরুর পাঁচবছর পর থেকে ঋণের কিস্তি প্রদানের শর্ত ছিলো। পরে কোম্পানি হিসেবে যাত্রা শুরুর পর থেকেই কিস্তি প্রদানের চুক্তি হয়।

কারখানার হিসাব শাখা জানায়, গত অর্থ বছরে কারখানার উল্লেখযোগ্য ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে- প্রি-অপারেটিং ব্যয় ৯৮ কোটি টাকা, ইনস্যুরেন্স বাবদ ব্যয় ৭ কোটি টাকা, কোম্পানিতে কর্মরত চীনা কর্মকর্তাদের বেতন ভাতা বাবদ ব্যয় ৫২ কোটি টাকা, পরিবহন বিল ৬০ কোটি টাকা, গ্যাস বিল ১০৩ কোটি টাকা, কেমিক্যাল কনজামশন ৭.৮১ কোটি টাকা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ৫০ কোটি টাকা, প্যাকেজিং সরঞ্জামাদি ক্রয় বাবদ ব্যয় ৩০ কোটি টাকা, কারখানা, প্রশাসন ও বিক্রয় ওভারহেড বাবদ ব্যয় প্রায় ৪০ কোটি টাকা প্রভৃতি।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে ৫৪০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে শাহজালাল সারকারখানার নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৫ সালের আগস্টে এই কারখানার পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরুর কথা থাকলেও ওই বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এখানে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয়। একই বছরের শেষদিকে শুরু হয় বাণিজ্যিক উৎপাদন

চীন এবং বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে নির্মিত এই সারকারখানায় প্রথমে প্রতিদিন ১৭৬০ মেট্রিক টন করে বছরে ৫ লক্ষ ৮০ হাজার ৮শ’ মেট্রিকটন ইউরিয়া সার এবং প্রতিদিন ১ হাজার মেট্রিক টন হিসাবে বছরে ৩ লক্ষ ৩০ হাজার টন অ্যামোনিয়া সার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো। তবে বর্তমানে কেবল ইউরিয়া উৎপাদন হচ্ছে এখানে। আর লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ধরা হয় ছিলো ৩লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন।

শেয়ার করুন