বাংলাদেশ সীমান্তে গুলিঃ তুমব্রু’র ২টি পয়েন্ট দিয়ে গুলিবর্ষণ, মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব…

বাংলা নিউজ ইউকে ডটকমঃ রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা শুরুর পর শত শত রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ পালিয়ে বাংলাদেশের দিকে আসতে থাকে। সীমান্তে তাদের বাধা দেয় বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদিকে, বাংলাদেশ সীমান্তে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)।

আজ শনিবার (২৬ আগস্ট) দুপুরের দিকে তুমব্রু’র ২টি পয়েন্ট দিয়ে ৮ থেকে ১০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করেছে তারা। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরে বিজিপি দুঃখপ্রকাশ করে।

এদিকে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত অং মিন্টকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আজ শনিবার (২৬ আগস্ট) বিকালে তাকে তলব করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয়) মাহবুবুজ্জামান। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতা ও নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান এবং রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের প্রেক্ষাপটে দেশটির রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে গত বৃহস্পতিবার রাখাইনে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে, রোহিঙ্গারা যেন দলে দলে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ না করে সে ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে অং মিন্টের কাছে একটি অনানুষ্ঠানিকপত্র হস্তান্তর করেছে ঢাকা।

মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের দাবি, রাখাইন রাজ্যে বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) এক রাতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ২০টি পোস্টে হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। রোহিঙ্গাদের একটি জঙ্গি সংগঠন এ হামলার দায়ও স্বীকার করে। মিয়ানমার সরকারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির দফতর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অভিযানে উভয়পক্ষের সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্য এবং ৭৭ রোহিঙ্গা জঙ্গি নিহত হয়েছে।এ ঘটনার একদিন আগেই কফি আনান কমিশন তাদের প্রতিবেদন দেয়। তাতে রাখাইন রাজ্যের সমস্যা সমাধানে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দান ও স্বাধীন চলাচলের অনুমতির সুপারিশ করা হয়।

নতুন এ সহিংসতার পরই ফের বাংলাদেশের দিকে ঢল নামে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের। সীমান্তে বিজিবির কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও কক্সবাজারের সীমান্ত দিয়ে দলে দলে অনুপ্রবেশ করছে তারা। তাদের অনেকেই গুলিবিদ্ধ ও গুরুতর আহত অবস্থায় বাংলাদেশে ঢুকেছেন। আজ শনিবারই চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ এক রোহিঙ্গা মারা যান।

গত অক্টোবরেও সন্ত্রাসী হামলার জবাবে রাখাইনে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। ওই সময় প্রাণ বাঁচাতে অন্তত ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেন। তারা এখনও উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থান করছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে রাথিডং শহরের ২০টি পুলিশ ফাঁড়িতে শ দেড়েক বিচ্ছিন্নতাবাদী বন্দুক হাতে বানানো বিস্ফোরক নিয়ে হামলা চালায়। রাখাইনের ওই শহরটিতে ১১ আগস্ট থেকে বিপুল সেনা মোতায়েন করেছে মিয়ানমার। সেনাপ্রধান মিন অং লায়েং তাঁর ফেসবুক পেজে লিখেছেন, সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা উগ্রপন্থী বাঙালি সন্ত্রাসীদের একসঙ্গে মোকাবিলা করেছে।

উল্লেখ্য, মিয়ানমার আনুষ্ঠানিকভাবে রাখাইনের মুসলিম জনগোষ্ঠীকে রোহিঙ্গা বলে না। এদের সাধারণত উত্তর রাখাইনের মুসলিম বলা হয়। এবারের সংঘর্ষের পর মিয়ানমার সন্ত্রাসীদের পরিচয় দিতে গিয়ে উত্তর রাখাইনের মুসলিমদের পরিবর্তে ‘বাঙালি’ শব্দটি ব্যবহার করেছে।

এ নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, সুযোগ পেলেই রোহিঙ্গাদের পরিচয় দেওয়ার সময় ‘বাঙালি’ শব্দটা ব্যবহার করা মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নিয়মে পরিণত হয়েছে। এবার রাখাইনে সংঘর্ষের পর ‘বাঙালি’ শব্দটি ব্যবহার করে সু চি বুঝিয়ে দিলেন, সেনাবাহিনীর মতো তাঁর অবস্থানও অভিন্ন।

শেয়ার করুন