রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন! : মুহাম্মাদ শরীফুজ্জামান

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে স্যেশ্যাল মিডিয়ায় উদ্বেগ আর নিন্দার ঝড় বইছে। সবাই এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতন বন্ধের জন্য আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ কামনা করছে। তবে দুঃখজনক হলে ও সত্য এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ভাবে তেমন কোন চাপ মায়ানমার সরকারের উপর যায়নি। তাই মায়ানমার সরকার অবলীলায় তাদের অমানবিক নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে বিভিন্ন পত্রপত্রিকার খবর অনুযায়ী গত দশ দিনে প্রায় ৯০,০০০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। গত বছর অক্টোবর মাসে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর অভিযানের মুখে ৭০,০০০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। তবে বাংলাদেশ সরকারের হিসেব অনুযায়ী আরো অন্তত: তিন লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের কক্সবাজার অঞ্চলে সরকারি অনুমোদন ছাড়া বসবাস করছে।

এই মুহূর্তে বাংলাদেশের বর্ডার গার্ড ও রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশে তেমন কোন বাঁধা প্রদান করছে না। যদিও এই মুহূর্তে ভয়াবহ বন্যায় আক্রান্ত বাংলাদেশের বিশাল জনপদ। তবুও নিজেদের দুঃখকষ্টের মাঝেও রোহিঙ্গাদের আতিথেয়তায় সবাই আন্তরিক। কিন্তু বাংলাদেশের একার পক্ষে মোটেই সম্ভব নয়, ভিটেমাটি ছাড়া রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ পূনর্বাসন ও তাদের পূনরায় নিজ দেশে ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করা। তার জন্য আন্তর্জাতিক সাহায্য সহযোগিতার প্রয়োজন।

কিন্তু মোড়ল দেশগুলোর এই ব্যাপারে নিরবতা বেশ আশ্চর্যজনক! এমনকি আন্তর্জাতিক ভাবে খ্যাতিমান ব্যাক্তিরাও এ ব্যাপারে নিরবতা পালন করছেন। সবার এমন নিরবতার মাঝে একটু ব্যতিক্রম হয়ে, শান্তিতে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত পাকিস্তানি তরুণী মালালা ইউসুফযায়ি রোহিঙ্গা নির্যাতন নিয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ এক টুইট করেন। সেই টুইটের বাংলা তর্যমা সহ নিম্নে তুলে ধরা হলো :

আমি যখনই খবর দেখি, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের দুরবস্থা তা দেখে আমার হৃদয় ভেঙ্গে যায়।

আমি নিম্নলিখিত বিষয়ে কল করছি :
আজ আমি ছোট ছোট বাচ্চাদের ছবি দেখেছি যাদের মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী হত্যা করেছে। এই বাচ্চারাতো কাওকে আক্রমণ করেনি, কিন্তু তারপরও তাদের বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।

মিয়ানমার যদি তাদের দেশ না হয়, যেখানে তারা বংশ পরম্পরায় বসবাস করছে, তাহলে তাদের দেশ কোথায় হতে পারে? রোহিঙ্গাদের মায়ানমারের নাগরিকত্ব দেয়া উচিত য দেশে তাদের জন্ম হয়েছিল।

আমার নিজের দেশ পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশের উচিত বাংলাদেশের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করা এবং যেসব রোহিঙ্গা পরিবার সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসছে তাদের জন্য আশ্রয়, খাদ্য এবং শিক্ষার সুযোগ দেয়া।

গত কয়েক বছর ধরে, যে ট্রাজিক ও লজ্জাজনক ঘটনা ঘটছে তার আমি তীব্র নিন্দা জানাই। আমি এখনো অপেক্ষা করছি আমার মতই নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত অং সান সু চির কাছ থেকে একই পদক্ষেপের জন্য। গোটা পৃথিবী অপেক্ষা করছে, এবং রোহিঙ্গা মুসলিমরাও অপেক্ষা করছে।

শেয়ার করুন