কক্সবাজারের উখিয়া টেকনাফ জুড়ে রোহিঙ্গাদের ঢল…

বাংলা নিউজ ইউকে ডটকমঃ কক্সবাজারের উখিয়া টেকনাফ জুড়ে এখন শুধু রোহিঙ্গা আর রোহিঙ্গা। যে দিকে চোখ পড়ছে সে দিকে কেবল রোহিঙ্গার ঢল দেখা যাচ্ছে। সীমান্তবর্তী এ উপজেলায় অসংখ্য রোহিঙ্গা দেখা যাচ্ছে।

গ্রামেগঞ্জে, রাস্তা ঘাটে, পাহাড়ে এবং নদীর ধারে শুধু রোহিঙ্গাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে এখানকার জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। হাট বাজার এবং সড়ক রোহিঙ্গাদের দখলে চলে গেছে।

শহীদ এটিএম জাফর সড়ক (কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক) ও মেরিন ড্রাইভ সড়কে রাত দিন রোহিঙ্গাদের ঢল আর ঢল নামছে। রোহিঙ্গাদের ভিড়ের মাঝে যান চলাচলে খুবই সমস্যা দেখা দিয়েছে। সড়কের দু’পাশে প্রতিনিয়ত রোহিঙ্গা অবস্থান করায় দূরপাল্লার যান চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ অব্যাহত থাকায় এ সমস্যা দিন দিন আরো প্রকট আকার ধারণ করবে বলে স্থানীয়রা মনে করছে। হাট বাজার এবং রাস্তাঘাটে দিন-রাত রোহিঙ্গাদের ভিড়ে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রায় মারাত্মক প্রভাব পড়ছে বলে লোকজনের অভিমত।

এদিকে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের বিক্ষিপ্ত ভাবে ঘুরাঘুরির সুযোগ না দিয়ে মানবিক কারণে তাদেরকে নির্দিষ্ট স্থানে রাখার দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মাইন উদ্দিন খাঁন জানান, লাখের উপরে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে ঠিক। তবে এখানকার আইন শৃংখলা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি যেন নষ্ট না হয় সে জন্য পুলিশের বিশেষ টিম দিন রাত কাজ করছেন।

তিনি আরো বলেন, অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা যেন ছড়িয়ে ছিটিয়ে না যেতে পারে সেজন্য তাদেরকে আপাতত বিজিবির তত্ত্বাবধানে হোয়াইক্যংয়ের রইক্ষ্যং এলাকার অস্থায়ী ক্যাম্পে রাখা হচ্ছে।

টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদ জানান, ২৫ আগস্ট থেকে অসংখ্য রোহিঙ্গা নারী পুরুষ এবং শিশু সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছেন। এখনো স্রোতের মত রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। এদের অনেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং আশেপাশের এলাকায় ঢুকে পড়লেও বেশির ভাগ রোহিঙ্গা ভাসমান অবস্থায় রাস্তা ঘাটে হাট বাজারে অবস্থান করছেন। যান চলাচল থেকে শুরু করে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রায় এর প্রভাব পড়ছে।

তিনিও স্থানীয়দের মত অনুপ্রবেশেকারী রোহিঙ্গাদের নির্দিষ্ট একটি স্থানে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

শেয়ার করুন