সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় রোহিঙ্গা নেতাদের নৃশংসভাবে হত্যা…

বাংলা নিউজ ইউকে ডটকমঃ মিয়ানমার সেনাবাহিনী অত্যাচার থেকে বাঁচতে রাখাইন রাজ্য থেকে আত্মীয়-স্বজনসহ ৩৩ জনকে নিয়ে মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে মো. আলম (২৫)।

রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনী এবং মগ সম্প্রদায়ের নির্মম অত্যাচারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের নৃশংসভাবে হত্যা করছে। বিশেষ করে গ্রামের চেয়ারম্যান, ধনী ব্যক্তি এবং স্থানীয়দের কাছে যারা ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত তাদের টার্গেট করে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে জবাই করে হত্যা করা হচ্ছে। এরপর লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।  মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় মগ সম্প্রদায়ের লোকজন নৃশংসভাবে হত্যা করে সেইসব ছবি ও ভিডিও সাধারণ রোহিঙ্গাদের দেখিয়ে গ্রামগুলোয় ভীতি সৃষ্টি করছে। যাতে সাধারণ রোহিঙ্গারা পালিয়ে যায়।’

আলমের পাশেই বসে ছিলেন তার বাবা সালেহ আহমেদ। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিচ্ছিলেন তারা দুজন। কথা বলার সময় তাদের দুজনেরই চোখে মুখে ছিল আতঙ্ক। নিজ দেশ ছেড়ে অন্য দেশে আসায় এখনও তারা সহজ হতে পারেনি। আলম বলেন, ‘মিলিটারিরা একসঙ্গে ২০০-৩০০ এলাকায় প্রবেশ করে। তাদের সঙ্গে স্থানীয় মগ থাকে। মগরা ঘরে আগুন দেয়, লুটপাট করে। কাকে কাকে হত্যা করতে হবে তাও বলে দেয়। এরপর মিলিটারি তাদের ধরে নিয়ে গুলি করে, জবাই করে এবং মগরা তাদের শত্রুতা মিটাতে তারা খুন করে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের গ্রামের পাশের গ্রামের নাম খুইন্যাপাড়া। এই গ্রামের চেয়ারম্যান মো. ফয়সাল। তারা চার ভাই। বড় ভাইয়ের নাম মাস্টার রফিক, মেজো ভাই মাস্টার হারুন, সেজো ভাই চেয়ারম্যান ফয়সাল এবং ছোটভাই মো. হাফিজ। চেয়ারম্যানের ছোট ভাই মো. হাফিজ সৌদি আরব থাকেন। চেয়ারম্যান অপর তিনভাইকে নিয়ে গ্রামেই ছিলেন। গত শুক্রবার তার বড় ভাই মাস্টার রফিক ও মেজো ভাই মাস্টার হারুনকে মিলিটারি ধরে নিয়ে যায়। তাদের চোখ বেঁধে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। এরপর হারুনকে জবাই করে হত্যা করে মিলিটারি। আর বড় ভাইয়ের কী হয়েছে তা আর জানা যায়নি। এলাকার যারা বড় বড় মানুষ তাদের মগরা ধরিয়ে দিচ্ছে। চেয়ারম্যান মংডুতে বিয়ে করছে বলে সে পালিয়ে মংডুতে গেছে। তাকে ধরতে পারেনি।’

উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যে একই সময় মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ২৯টি চৌকিতে হামলা চালানোর অভিযোগ আনে সে দেশের সরকার।

এরপর থেকেই দেশটির সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে অভিযান শুরু করে। রোহিঙ্গাদের ঘর-বাড়িতে প্রতিদিনই আগুন দেওয়া হচ্ছে। জীবন বাঁচাতে ঝুঁকি নিয়ে রোহিঙ্গারা নদী, পাহাড়, জঙ্গল পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

শেয়ার করুন