গোপালগঞ্জে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা শুরু

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ গোপালগঞ্জে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা শুরু হয়েছে। গনসংযোগ, সভা-সম্মেলনে ও অনুষ্ঠানাদিতে যোগদান সহ বিভিন্ন কর্মকান্ডে সরব হয়ে উঠেছে তাঁরা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মভূমি গোপালগজ্ঞের নির্বাচনী আসনে প্রায় সবকটি সংসদ নির্বাচনেই আওমী লীগের প্রার্থীরাই বিজয়ী হয়েছেন বিপুল ভোটে।

গোপালগজ্ঞ জেলার ৩টি আসনের মধ্যে গোপালগঞ্জ-১ ভোটার সংখ্যা ৩ লক্ষ ১০ হাজার ৩৩৫ জন। এর মধ্য পুরুষ ১ লক্ষ ৫৫ হাজার ৫৩ জন। মহিলা ১ লক্ষ ৫৫ হাজার ২৮২ জন। এ আসনে ২০০১ সালে নির্বাচনে মু: ফারুক খাঁন (আ:লীগ) ১ লক্ষ ৪৫ হাজার ৩৯১ ভোটে জয়ী হন। প্রতিদ্বন্ধি প্রর্থী বিএনপি মেজর জেনারেল(অব:) মো: মহব্বতজান চেীধুরি পান ২০ হাজার ১৩৬ ভোট। ২০০৮ সালে বিজয়ী হন কর্নেল (অব:) মু: ফারুক খাঁন । তিনি পান ১ লক্ষ ৮৩ হাজার ২১৭ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি বিএনপির প্রর্থী মো: সেলিমুজামান পান ৯হাজার ৯৮৬ ভোট। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আবারও ২ লক্ষ ৪০ হাজার ৩০৪ ভোটে পেয়ে কর্নেল (অব:) মু: ফারুক খাঁন (আ:লীগ) নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি প্রর্থী জাতিয় পাটির দীপা মজুমদার পান ৫ হাজার ৮৬৩ ভোট। বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে।
গোপালগঞ্জ আসনে ভোটের সখ্যা ২ লক্ষ ৯৭ হাজার ৫৮৬ ভোট।

এর মধ্য পুরুষ ১ লক্ষ ৪৮ হাজার ৪০ জন এবং মহিলা ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ১৮২ জন। এ আসনে গোপালগজ্ঞ সদর ও কাশিয়ানি। ২০০১ সালে সংসদ নির্বাচনে আওমীলীগ প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম শেখ ফজলুল করিম সেলিম ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ৮২১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি বিএনপি প্রার্থী সাইফুর রহমান নান্টু পান ৮হাজার ১৬৪ ভোট। ২০০৮ সালের নির্বচনেও শেখ ফজলুল করিম সেলিম (আওমীলীগ) ১লক্ষ ৮৩ হাজার ২৩৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি সিরাজুল ইসলাম সিরাজ (বিএনপি) পান ৭ হাজার ৬৪৩ ভোট। ২০১৪ সালে নির্বাচনে শেখ ফজলুল করিম সেলিম পুনরায় ২ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫৯১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি জাপা (এরশাদ) এর কাজী সাহিন পান ৪ হাজার ৮৪ ভোট। এবারের নির্বাচনে বি এন পি অংশ নেয়নি।

গোপালগঞ্জ ৩ আসনে ভোটের সংখ্যা ২লক্ষ ৩৩ হাজার ৭৪৫জন। এর মধ্যে পুরুষ ১লক্ষ ১৯ হাজার ৭৪৫ জন। মহিলা ১ লক্ষ ১৩ হাজার ৯৯৯জন। ২০০১ সালের নির্বাচনে (কোটালিপাড়া-টুঙ্গিপাড়া) আসনে আওমীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ১ লক্ষ ৫৪ হাজার ১৩০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি হাফেজ ওমর আহম্মদ (খেলাফত মজলিশ) পান ৭হাজার ২২ ভোট । ২০০৮ সালের নির্বচনে শেখ হাসিনা (আওমী লীগ) পুনরায় নির্বাচিত হন ১ লক্ষ ৫৮ হাজার ১৫৮ ভোট পেয়ে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি এস এম জিলানী (বি এন পি) পান ৪ হাজার ৪৫১ ভোট। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওমী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ১ লক্ষ ৮৭ হাজার ১৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি জাতীয় পাট্রি (এরশাদ) প্রার্থী এ জেড অপু শেখ পান ২ হাজার ৪৩০ ভোট। বিএনপি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়া থেকে বিরত থাকে।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ জেলায় ৩টি আসনে দলীয় মনয়ন প্রত্যাশী ও সম্ভ্রাব্য প্রার্থী যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হচ্ছেন গোপালগঞ্জ-১, (মুকসুদপুর – কাশিয়ানী) আসনে নির্বাচন সংসদ কর্নেল (অবঃ) মুহাম্মদ ফারুক খাঁন, মহিলা সংরক্ষিত আসনে সংসদ  রাজিয়া কাজল, দলের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য মুকুল বোস, কেন্দ্রীয় সেচ্ছা সেবকলীগের অর্থ সম্পাদক কে এম মাসুদুর রহমান, যুবলীগের নেতা আতিয়ার রহমান দিপু। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক আরিফা রহমার রুমা, ব্যারিষ্টার রাজিব খাঁন।

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা এ আসনে দলের সম্ভ্রাব্য প্রার্থী বলে শোনা যাচ্ছে। এ আসনে বি এন পি থেকে মনোনয়ন দৌড়ে আছেন দলটির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম, জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ এফ ই শরফুজ্জামান জাহাঙ্গীঁর, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান পটু, ছাত্রদলের সাবেক নেতা কামরুজ্জামান টুটুল, কেন্দ্রীয় সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন। এ ছাড়া ইসলামিক শাশনতন্ত্র আন্দোলনের মিজনুর রহমান মিজান, জাপার (এরশাদ) দীপা মজুমদার, বাসদের মোশায়েদ হোসেন ঢালী, জাসদ (ইনু) আজম শরিফ, জাসদ (আম্বিয়া) শহিদুল বাবর, হিন্দুলীগের রমেশ চন্দ্র বিশ্বাস। তবে এ আসনে বিএনপি সেলিমুজ্জামান সেলিম ছাড়া দলের জন্য কোন নেতা মাঠে নেই। আঃলীগের মুঃ ফারুক খাঁন এম পি, মুকুল বোস সহ অনেক নেতাই মাঠে তৎপর আছেন। জাপার দীপা মজুমদার এ আসনে ২০১৪ সালের নির্বচিন করেছিলেন।

গোপালগঞ্জ-২ (গোপালগঞ্জ সদর – কাশিয়ানী ) আসনে বর্তমান সংসদ আঃলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম তিনি এ আসন থেকে ৮বার নির্বাচিত হয়েছেন। এ আসনে তিনি অপ্রতিদ্বদ্ধি। ঘন ঘন তিনি এলাকায় জন-সংযোগ করে চলেছেন। তার রয়েছে বিপুল জনপ্রিয়তা। এ ছাড়াও তার ছোট ছেলে ব্যারিষ্টার শেখ ফজলে নাঈম প্রতি মাসে একবার করে গোপালগঞ্জ আসছেন এবং জন-সংযোগ ও সমবেশে যোগ দিচ্ছেন। শেখ রেহানাও এ আসনে দলীয় সম্ভাব্য প্রর্থী বলে গুঞ্জন রয়েছে। এ আসনে শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপিই নিশ্চিত প্রার্থী বলে দলীয় আনেক নেতা কর্মী এ প্রতিবেদকে জানিয়েছেন। এ আসনে দলের বি এন পি সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিরাজ সাবেক সভাপতি শরফুজ্জামান জাহাঙ্গির , সাবেক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক জেলা সভাপতি এম এইচ খান মঞ্জু , সাধারন সম্পাদক এম মনসুর আলী , সাধারন সম্পাদক মনিরুজ্জামান পিনু , জেলা যুবদল নেতা এ্যাডভোকেট তৌফিকুল ইসলাম তৌফিক দলের মনোনয়ন চাইতে পারেন।

এছাড়াও জাপা (এরশাদ) এর প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষক পার্টির সভাপতি সাইদুর রহমান টেপা, কেন্দ্রীয় সংগঠনিক সম্পাদক শেখ আলমঙ্গীর হোসেন, জেলা জাপার সভাপতি এ্যাডভোকেট গোলাম মেহেদি খাঁন ২০১৪সালের নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রার্থী কাজী শাহীন দলের মনোয়ন প্রত্যাশী । জাসদ (ইনু) জেলা সভাপতি ও প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শেখ মাসুদুর রহমান মাসুদ, জাসদ (আম্বিয়া) এর শহিদুল হক , হিন্দুলীগের অধ্যাপক শুকদেব বিশ্বাস, কমিউনিস্ট কেন্দ্রর যুগ্ম-আহবায়ক ও কেন্দ্রীয় ১৪দলের নেতা ডাঃ অসিত বরন রায়ের নাম সম্ভ্রাব্য প্রার্থী হিসাবে শেনা যাচ্ছে। ডাঃ অসিত বরন রায় ১৪ দলগতভাবে এ আসনে মনোয়ন চাইতে পারেন। তিনি প্রায়শই এ এলাকায় আসছেন ঢাকা থেকে। এ ছাড়াও জেলা বি এন পি সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ও এলাকার জনসংযোগ চালাচ্ছেন।

গোপালগঞ্জ -৩ (কোটালিপাড়া-টুঙ্গিপাড়া) আসনে আঃলীগের প্রর্থী প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এ আসনটি তার নিজ নির্বাচনী এলাকা। ১৯৮৬ সাল থেকে এ আসনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছেন। এ আসনে জাপা (এরশাদ) সম্ভাব্য প্রর্থী এ্যাডভোকেট শিশির চৌধুরী, এ.জেড আপু শেখ। আপু শেখ ১০১৪ সালে এআসনে জাপার প্রর্থী হয়ে নির্বাচন করেছিলেন। এ আসনে জেলা বি.এন.পির সহ-সভাপতি এবং টুঙ্গিপাড়ার সন্তান এস.এম জিলানী দলের মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন।এ ছাড়া হিন্দুলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক বিরেনাদ্রনাথ মৈত্য, জাসদ (ইনু) কোটালিপাড়ার উপজেলার কমিটির সভাপতি অরুর চন্দ্র সাহা, জাসদ (আম্বিয়া) রিয়াজুল ইসলাম তালুকদারের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে শোনা যাচ্ছে।

 

জেলা বি.এন.পি সাধারন সম্পাদক বলেছেন, দল জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহন নেওয়া সিন্ধান্ত নিলে এবং এ জেলায় তিনটি আসনে প্রর্থী মনোনয়ন দিলে আমরা দলের প্রার্থী পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে দলের কাজ করে আমাদের অবস্থান ঠিক রাখব।

শেয়ার করুন