সাংবাদিকের উপর সন্ত্রাসী হামলা, আহত ৫

বাংলা নিউজ ইউকে ডটকমঃ সিলেট নগরীর আখালিয়ায় সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এক সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন। এ সময় সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকের মা ও ছোট ভাইয়ের উপরও হামলা চালায় এবং বাসার আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। আহত সাংবাদিকের নাম রেজা রুবেল। তিনি সিলেটের দৈনিক কাজীর বাজারের ফটো সাংবাদিকের দায়িত্বে নিয়োজিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল ৫টার দিকে নিজ বাড়ির সামনে স্থানীয় সন্ত্রাসী বাবলু ও নাহিদের নেতৃত্বে ৫-৬ জনের একটি দল ধারালো অস্ত্র নিয়ে সাংবাদিক রুবেল ও তার পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা চালায়। সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তাদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে চলে যায়।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন সাংবাদিক রেজা রুবেল। তাঁর মা –সাজিদা বেগম ( ৬৫), ছোট ভাই হাসান আহমদ (২০) এবং বাতিজা শিশু আরীয়ান আহমদ শুভ (৫)।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাংবাদিক রেজা রুবেলের এক হাত ও পিঠে ধারালো অস্ত্রের গুরুত্বর আঘাত রয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, একই এলাকার ৩১ নং বাসার সিকান্দর আলীর পুত্র বাবলু উরফে কালা বাবলু (২৬) দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকায় মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছিল। তার ভয়ে এলাকার কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। গত ২৭ জুলাই সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে বাবলুসহ তার সহযোগী অজ্ঞাতনামা এক মাদকসেবী সাংবাদিক রেজা রুবেলের বাসায় প্রবেশ করলে তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

পরবর্তীতে বাবলু প্রায়ই সাংবাদিক রেজা রুবেল ও তার পরিবারকে হুমকি দিয়ে আসছে। বিষয়টি অবগত করে গত ২৮ জুলাই রুবেল বাদি হয়ে বাবলুর বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় (নং-২১৬৯) একটি জিডি এন্ট্রি করেন। ৫ ও ৬ আগস্ট র‌্যাব পরিচয় দিয়ে মোবাইলফোন রুবেল ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকী দেয়া হয়। কোতোয়ালী থানায় (নং- ৫৭৪) আরেকটি জিডি এন্ট্রি করেন।

এদিকে, গত শুক্রবার রাত ১ টার দিকে জালালাবাদ থানা পুলিশের একটি দল নতুন বাজার থেকে বাবলু উরফে কালা বাবলু ও তার সহযোগী শরীফকে গ্রেফতার করে। শনিবার বিকেলে বাবলু বেরিয়ে এসে ১০/১৫ জন সন্ত্রাসীকে সাথে নিয়ে তাদের বাসায় দু’দফা হামলা ভাংচুর চালায়।

সাংবাদিক রেজা রুবেল জানান, বাবলু আমার বাসায় যখন হামলা চালিয়েছিল তখন তিনি মাহা ইমজা মিডিয়া ফুটবল কাপের জন্য আবুল মাল আব্দুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সে অনুশীলনে করছিলাম। মায়ের ফোন পেয়ে দ্রুত বাসায় চলে এসে দেখি বাসার গেইট, দরজা জানালা ভাঙ্গা। পরে ১০/১৫ জন সন্ত্রাসীসহ বাবলু আবার বাসায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। আজ বাসা থেকে অফিসের উদ্যোশে বের হলে বাবলুসহ ১০/১২জন্য সন্ত্রাসী আমার উপর ঝাপিয়ে পড়ে । তারা আমার পরিবারের সদস্যদের উপরও হামলা চালায়, আমরা –মা, ছোট ভাই এবং বাতিজা তাদের হামলায় গুরুতর আহত হন।

শেয়ার করুন