সিলেট-২ আসনে তৃণমুল চায় আনোয়ারুজ্জামান চৌধূরীকে, প্রচারনায় ব্যাস্ত শফিকুর রহমান চৌধূরী

জাহেদুল ইসলাম : সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ওসমানীনগর-বালাগঞ্জ একাংশ) নির্বাচনি আসনে তৃণমূল আওয়ামীলীগ চায় আনোয়ারুজ্জামান চৌধূরীকে। অন্যদিকে শফিকুর রহমান চৌধূরী মনোয়ন পেতে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। দুই চৌধুরী আগামীতে ভোট যুদ্দে উপনীত হতে চান প্রবাসী অধ্যুষিত এই এলাকায়। আওয়ামী লীগের প্রার্থী কে হচ্ছেন এ নিয়ে ও আলোচনা শুরু হয়েছে তিন উপজেলা জুড়ে।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী নিয়ে অনিশ্চয়তায় দলের কর্মী ও সমর্থকরা। সাবেক এমপি ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী দলীয় মনোনয়ন পেতে তৎপর রয়েছেন।

গত বছরের অক্টোবরে আওয়ামীলীগের সম্মেলনে সভা নেত্রী পুনরায় হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলিত বছরের ১৪ জানুয়ারি প্রথম ধানমন্ডিতে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে দলীয় নেতা কর্মীকে বলেন- আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিন। আওয়ামী লীগের সভা নেত্রীর এমন ঘোষণার পর পরই সারাদেশে সহ সিলেট-২ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নড়েচড়ে বসেন। প্রকাশ্য না হলেও তারা নীরবে চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের কাজ। গত বারের মতো এবারও সিলেট-২ আসনে কে পাবেন আওয়ামী লীগের দলীয় টিকেট তা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। কে হবেন সিলেট-২ আসনের নৌকার মাঝি? দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কার হাতে নৌকার দায়িত্ব দেন। না কি গত নির্বাচনের মতো সমঝোতার মাধ্যমে জাতীয় পাটির যুগ্ম মহাসচিব বর্তমান সংসদ সদস্য ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়াকে আবারো দেওয়া হবে মনোনয়ন তা নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে চলছে গুঞ্জন।

বালাগঞ্জ, বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-২ আসন। এই আসনকে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে থাকেন। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি সঙ্গে সমঝোতায় এখানে আওয়ামী লীগ থেকে কেউ প্রার্থী হননি। বরাবরই এই আসনে আওয়ামী লীগ থেকে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন প্রাপ্তির জন্য লড়াই করেন। আর এতে দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। এবারও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে এবার বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মী বলছেন ভিন্ন কথা। শাসক নয়, সেবক চান তারা।

সাধারণ নেতাকর্মীদের আপনজন হিসেবে আনোয়ারুজ্জান চৌধুরীর বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন ওসমানীনগর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আনা মিয়া।

আগামী জাতীয় নির্বাচনে এই আসন থেকে আনোয়ারুজ্জামানকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান তারা। ইতি মধ্যেই আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থী রয়েছেন মাঠে। শফিকুর রহমান চৌধুরী ও আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। তিন উপজেলায় তাদের অনুসারীরা নিজ নিজ নেতার পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ঐ তিন উপজেলায় তৃনমুল আওয়ামীলীগের কাছে সুবিধাজনক অবস্হানে আছেন আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। তৃনমুলে বেশীরভাগ নেতা কর্মী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর পক্ষে মাঠে কাজ করছেন বলে জানান তারা। সে ক্ষেত্রে কিছুটা বে কায়দায় আছেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, সম্প্রতী বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি নিয়েও পড়েন বিপাকে।

বিএনপি ঘরণার পংকি খানকে সভাপতি করে দেশ বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। কেন্দ্রিয় আওয়ামীলীগ এক পর্যায়ে কমিটি স্হগিত করে দেয়। সিলেট আওয়ামীলীগেও তোপের মুখে পড়েন তিনি। নেতা কর্মীর অভিযোগ তিনি বি এন পি ঘরনার মানুষ দিয়ে উপজেলা কমিটি করেছেন। প্রবাসি অধ্যুষিত সিলেট-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নিয়ে শেষ মুহূর্তে লড়াই জমে ওঠার আশঙ্কাও করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আনোয়রুজ্জামান চৌধুরীর পক্ষে এলাকার আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নবীন ও প্রবীন নেতাকর্মী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে ইতি মধ্যে কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সিলেট ২ আসনের প্রবাসীরা গত ১১ ই সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর সমর্থনে বিশাল জনসভা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন। দলীয় প্রার্থী নিয়ে আলোচনা সমালোচনা থাকলেও সুযোগ সন্ধানে রয়েছে জাতীয় পার্টি, তাই নেতাকর্মীর দাবী জাতীয় পার্টিকে না দিয়ে এখনই যোগ্য ও তৃণমুলের পার্থীকে মনোনয়ন দিলে আসনটি আওয়ামীলীগের দখলে থাকবে।

শেয়ার করুন