নোয়াখালীতে কারা পাচ্ছেন আ’লীগ-বিএনপির মনোনয়ন

বাংলা নিউজ ইউকে ডটকমঃ ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া বইছে উপকূলীয় জেলা নোয়াখালীতে। এই জেলায় একাধিক আসনে বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে হ্যাভিওয়েট প্রার্থী রয়েছেন। জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে দলীয় মনোনয়নের আশায় দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে গেছে। ঈদ উৎসব ও জাতীয় শোক দিবসসহ বিভিন্ন দিবসকে ঘিরে নানা কৌশলে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে পড়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত নোয়াখালী জেলা। এ জেলায় জাতীয় সংসদের ছয়টি আসন রয়েছে। বড় দুইটি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ করা যাচ্ছে।থেমে নেই জামায়াত ও জাতীয় পাটির তৎপরতাও। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য লবিং শুরু করেছেন। অধীনস্থ নেতাকর্মীরা কোন উপলক্ষকে সামনে রেখে ছবি সংবলিত পোস্টার দিয়ে তাদের সমর্থন জানান দিচ্ছেন।

নোয়াখালী ১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ি): এই আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এইচএম ইব্রাহীম আবারও দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই আসনে দলীয় মনোনয়নের আশায় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলম এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নেতাকর্মী ও পেশাজীবীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। বিএনপি থেকে দলের যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন।

এছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন কামরান, সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান, জাতীয় পাটির কেন্দ্রীয় নেতা দিদারুল আলম, জাসদের নুরুন নবী ও জাতীয় যুবজোটের প্রকৌশলী হারুনুর রশীদ সুমনের নাম শোনা যাচ্ছে।

নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ি): এই আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য শিল্পপতি মোরশেদ আলমের পাশাপাশি মনোনয়নের জন্য চেষ্টা করছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শিল্পপতি আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামাল উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আহম্মদ চৌধুরী।

বিএনপি থেকে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন।

এছাড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী মফিজুর রহমান, জাতীয় পাটির হাসান মঞ্জুর, জাসদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নইমুল আহসান জুয়েলের নাম শোনা যাচ্ছে।

নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ): আসনটিতে আওয়ামী লীগ থেকে বর্তমান সংসদ সদস্য শিল্পপতি মামুনুর রশিদ কিরনের পাশাপাশি মনোনয়নের জন্যে কাজ করছেন চৌমুহনী পৌরসভার মেয়র আখতার হোসেন ফয়সল, সাবেক সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদের ছোট ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মিনহাজ আহমেদ জাবেদ ও এনায়েত উল্লা।

বিএনপি থেকে কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি বরকত উল্লাহ বুলু মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন। এছাড়া সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ডা. মেজর (অব.) মোঃ রেজাউল হক ও ড্যাব নেতা ডা. মাজহারল ইসলাম দোলনের নাম শোনা যাচ্ছে।

নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর): এই আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী ২০০৮ ইং সালের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বিএনপি সহ-সভাপতি মোঃ শাহজাহানকে পরাজিত করে আসনটি ধরে রেখেছেন।এবারও তার মনোনয়ন পাওয়া অনেকটাই নিশ্চিত। বিএনপি থেকে এই আসনে পরপর চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোঃ শাহজাহানের মনোনয়ন পাওয়া প্রায় নিশ্চিত।

নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট): নোয়াখালী-৫ আসনটি বরাবরই আলোচিত। এ আসনে লড়াই করেন দেশের বৃহত্তম দুই দলের হেভিওয়েট দুই প্রার্থী।আগামী জাতীয় নির্বাচনেও এ আসনে জমজমাট লড়াইয়ের আশা করছেন। এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বিএনপির প্রার্থী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। জাসদের অ্যাভোকেট আজিজুল হক বকশি ও মোঃ সেলিম উল্লার নামও শোনা যাচ্ছে।

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া): হাতিয়া আসনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক ওয়ালী উল্যা ও সাবেক এমপি মো: আলীর স্ত্রী ও বর্তমান এমপি আয়েশা ফেরদৌসের মধ্যে মনোনয়ন নিয়ে লড়াই হবে। বিএনপির সাবেক এমপি ফজলে আজিমের মনোনয়নর প্রাপ্তির সম্ভাবনা রয়েছে। হাতিয়ায় আওয়ামী লীগ সরাসরি দুই ভাগে বিভক্ত। একাংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বর্তমান সংসদ সদস্য এমপি আয়েশা ফেরদৌসের স্বামী ও সাবেক সংসদ সদস্য মো: আলী এবং উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যাপক ওয়ালী উল্যা নেতৃত্বে দিচ্ছেন আরেকটি অংশের। দুই গ্রুপের মধ্যে হানাহানি লেগেই থাকে। মনোনয়ন নিয়েও দুই গ্রুপের যুদ্ধ হানহানিতে রূপনিতে পারে।এ দিকে প্রায় প্রতিটি আসনে জামায়াতের বিপুল ভোট রয়েছে। কেন্দ্র কী সিদ্ধান্ত নেয় তার অপেক্ষায় নেতাকর্মীরা রয়েছে। আইনি জটিলতায় দলীয়ভাবে প্রার্থী দিতে না পারলেও স্বতন্ত্রপ্রার্থী দিতে পারে জামায়াত। সে ক্ষেত্রে প্রার্থীও দলীয় সিদ্ধান্তে হবে বলে জানা গেছে।

শেয়ার করুন