বাংলাদেশেও বিপদে রোহিঙ্গা নারী-শিশুরা, দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে নিখোঁজের সংখ্যা

বাংলা নিউজ ইউকে ডটকমঃ সীমান্তের ওপারে রাখাইনে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেও বিপদে রোহিঙ্গা নারী-শিশুরা। দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা যুবতি ও শিশু নিখোঁজের সংখ্যা। নিখোঁজ কিংবা অপহরণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে বৈঠককালীন সেনাবাহিনীর ৬৫ পদাতিক ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রহমান জানান, সংঘবদ্ধ পাচারকারী সিন্ডিকেটের সদস্যরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এজন্য সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও যৌথভাবে কাজ করার আহবান জানান।

নারী-শিশু পাচারকারীরা বিভিন্ন প্রলোভন ও অর্থের লোভ দেখিয়ে অসহায় রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করার এক ঘৃণ্য কাজে নেমে পড়েছে সঙ্ঘবদ্ধ একটি চক্র।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিন নারী শিশু নিখোঁজ হচ্ছে। এমনকি নিখোঁজ সংবাদ প্রচার করতে মাইকিং সহ কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে।

নিখোঁজ সংবাদ প্রচারে দায়িত্বপালনকারী নজির জানান, প্রতিদিন অসংখ্য নারী ও শিশু নিখোঁজের খবর আমাদেরকে মাইকে প্রচার করতে হচ্ছে। বর্তমানে ১ হাজারের অধিক নিখোঁজের মধ্যে ১৭৯জন ছেলে ও ৭৬জন মেয়ে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উখিয়ার কুতুপালং, টিভি টাওয়ার পাহাড়, বালুখালী, মাইন্যার ঘোনা, তাজনিমার খলা, হাকিম পাড়া, থাইংখালী ও তেল খোলা, অস্থায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নারী শিশু পাচারকারীরা অপতৎপরতা চালাচ্ছে। দামী গাড়ি নিয়ে ক্যাম্পগুলোতে ত্রাণ বিতরণের নামে তারা নারী-শিশুদের টার্গেট করছে।

মানবাধিকার সংস্থার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এক সময় কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ও টেকনাফের নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্প নারী ও শিশু পাচারের টার্নিং পয়েন্ট হিসাবে পরিচিতি ছিল। মানবাধিকার সংস্থা বেশ কয়েক বছর ধরে ভারত থেকে পাচার হওয়া অনেক রোহিঙ্গা নারী শিশুকে উদ্ধার করেছিল।

সূত্রে জানা যায়, উখিয়া-টেকনাফের অস্থায়ী ক্যাম্প থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজারের অধিক রোহিঙ্গা যুবতি ও শিশু নিখোঁজ রয়েছে। এর মধ্যে ২৫৫ জনকে ফেরত পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে জানতে কুতুপালং ক্যাম্প ইনচার্জ মো: রেজার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

হেলপ কক্সবাজারের নির্বাহী পরিচালক আবুল কাশেম বলেন, পাচারকারীরা সক্রিয় রয়েছে। যে কোন সময় নারী-শিশু পাচার ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজের নামে নারী-শিশু পাচার হচ্ছে। পাচারের বিষয়টি সরকারি-বেসরকারিভাবে জরিপের আওতায় আসেনি, এখনো তাই সঠিক সংখ্যাটা বলা যাচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, ২৪ আগস্ট দিনগত রাতে রাখাইনে যখন পুলিশ ক্যাম্প ও একটি সেনা আবাসে বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। এর জেরে ‘অভিযানের’ নামে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশুদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকে। ফলে লাখ লাখ মানুষ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য চলে আসছেন।

জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইএমও) বলছে, সহিংসতার শিকার হয়ে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় সোয়া চার লাখ। তবে বেসরকারি হিসেবে এই সংখ্যা সাড়ে পাঁচ লাখ ছাড়িয়েছে। সহিংসতায় প্রাণ গেছে তিন হাজারের বেশি মানুষের। বেসরকারিভাবে এই সংখ্যা দশ হাজার পার করেছে মধ্য সেপ্টেম্বরেই।

এক জরিপে জানায়, উখিয়ার ৬টি অস্থায়ী এবং টেকনাফের ৫টি ক্যাম্পে নতুন পুরাতন প্রায়  ১০ লক্ষ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।

শেয়ার করুন