খালেদা জিয়া আদালতে দেওয়া আংশিক বক্তব্যে যা বলেছেন…

বাংলা নিউজ ইউকে ডটকম : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে আংশিক বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি পরবর্তী সময়ে বাকি বক্তব্য শেষ করতে আদালতের কাছে আজকের মতো শুনানির মুলতবি প্রার্থনা করেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ২৬ অক্টোবর পুনরায় শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

এর আগে বিশেষ আদালতে আত্মসমর্পণ করে এক লাখ টাকার মুচলেকায় জামিন পেয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। এর পরই খালেদা জিয়া আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য শুরু করেন। তিনি সোয়া ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আদালতে তাঁর বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১২টা থেকে সোয়া ১টা পর্যন্ত এক ঘন্টাব্যাপী এই বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপারসন।

এ সময় খালেদা জিয়া এ মামলাকে বানোয়াট ও মিথ্যা বলে অভিহিত করেন। হয়রানি ও হেনস্তার জন্যই এ মামলা দেওয়া হয়েছে বলেও আদালতে অভিযোগ করেন তিনি।

খালেদা জিয়া বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্ববিরোধীতায় ভরপুর। দুদকের আইনগত কর্তৃত্ব ও ইখতিয়ারের বাইরে মামলাটি করা হয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, বিচারের নামে দীর্ঘদিন ধরে আমি হয়রানি পেরেশানি ও হেনস্তার শিকার হচ্ছি। এতে আমার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিঘ্নিত হচ্ছে আমার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম।

তিনি আরও বলেন, দেশে আইনের শাসন নেই এবং সরকার বিচারবিভাগকে প্রভাবিত করছেন। বিচারাধীন মামলা নিয়ে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা নানা বক্তব্য দিয়ে এই মামলাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে এই জামিন মঞ্জুরের ক্ষেত্রে খালেদা জিয়াকে ৩ টি শর্ত প্রদান করেছে আদালত। শর্তগুলো হচ্ছে-

১. বিদেশ গেলে আদালতকে জানাতে হবে

২. এক লাখ টাকার মুচলেকা

৩. দুইজন জামিনদার

গত ১২ অক্টোবর মামলা দুটিতে খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। একই সঙ্গে অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানির কার্যক্রম শেষ করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের তারিখ ঠিক করে দেন। আর চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি জেরার পর্যায়ে রয়েছে।

প্রসঙ্গত, তিন মাস পর যুক্তরাজ্য থেকে গতকাল বুধবার দেশে ফিরেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন। গতকাল বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে তিনি ঢাকায় পৌঁছান। যুক্তরাজ্যে থাকতেই ঢাকা ও কুমিল্লায় নাশকতা, দুর্নীতি ও মানহানির পাঁচটি মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। হঠাৎ করে দুই দিনে এসব মামলায় আদালতের পরোয়ানা জারির প্রেক্ষাপটে নেতা-কর্মীদের মধ্যে কিছুটা উৎকণ্ঠা ছিল। কেউ কেউ গ্রেপ্তারের আশঙ্কা করেন।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলাটি করে দুদক।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন আর রশিদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

শেয়ার করুন