মেঘনায় আটকা পড়েছে বিদেশিসহ ৫শ’ যাত্রী…

বাংলা নিউজ ইউকে রিপোর্ট : পাঁচ শতাধিক যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে বরিশালে ফেরার পথে মেঘনায় আটকা পড়েছে দিবা সার্ভিসের এমভি গ্রিনলাইন-২ লঞ্চ (ওয়াটার বাস)। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল নৌ-থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেল্লাল হোসেন।

আজ শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) সকাল ৮টায় ছেড়ে আসা লঞ্চটি দুপুর সাড়ে ১২টায় বিকল হয়ে যায়। দীর্ঘ সময়েও যাত্রীদের উদ্ধার না করায় আতঙ্কে রয়েছেন। ইতিমধ্যেই লঞ্চে খাবার সংকট দেখা দিয়েছে।

বেল্লাল হোসেন জানান, সকালে পাঁচ শতাধিক জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার সদরঘাট থেকে বরিশালের উদ্দেশে রওয়ানা দেয় এমভি গ্রিনলাইন-২ নামের দিবা সার্ভিসের লঞ্চটি। দুপুরে হিজলার ধূলখোলায় পৌঁছালে এতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এরপর তা বিকল হয়ে পড়লে যাত্রীরা আটকা পড়েন।

খবর পেয়ে নৌ-পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএ’র তৎপরতায় তিনটি নৌযানকে যাত্রীদের আনার জন্য ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি এরইমধ্যে যাত্রীদের জন্য স্পিডবোটযোগে খাবার পাঠানো হয়েছে।

লঞ্চে থাকা এক যাত্রী জানান, ৫৬৮ জন যাত্রী নিয়ে সদরঘাট থেকে সকালে লঞ্চটি বরিশালের উদ্দেশে ছাড়ার পর মুন্সীগঞ্জ আসার পরই লঞ্চের একটি ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এরপর আরেকটি মেশিন দিয়ে আস্তে আস্তে লঞ্চটি চলতে থাকে। কিন্তু দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চাঁদপুরের হরিণা এলাকায় পৌঁছানোর পর ওই ইঞ্জিনটিও বিকল হয়ে যায়। এরপর অন্য একটি ট্রলারের সহযোগিতায় লঞ্চটি একটি চরের কাছে নিয়ে ভিড়িয়ে রাখা হয়। এ লঞ্চে ভারতের ১৮ জন এবং ফ্রান্সের পাঁচ পর্যটক রয়েছেন।

এদিকে গ্রিনলাইনের যাত্রীরা জানান, মাস্টারের অসাবধান চালানোর কারণে লঞ্চের সুকানি ভেঙ্গে যায়। এসময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওয়াটার বাসটি ডুবোচরে আটকে যায়।

অপরদিকে গ্রিন লাইন-২ লঞ্চের মাস্টার ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল ৮টায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসার পর বেলা ১টা ২০ মিনিটের দিকে লঞ্চটি আনকন্ট্রোল হয়ে গিয়ে চরের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এ সময় ইঞ্জিনের গতি কমিয়ে দেই। তখন আমি পেছনে এসে দেখি বাম পাশের রাডারটা নেই। এরপর লঞ্চ অ্যাঙ্কর করে রেখেছি। মালিক ও ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা লঞ্চ পাঠাচ্ছে, তবে এখনও লঞ্চ আসেনি।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিনিয়তই যোগাযোগ করছি। তবে লঞ্চ কখন আসবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।’

তিনি জানান, পৌনে ২টার দিকে বরিশাল পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু তা না হওয়ায় ইতিমধ্যেই ৪০-৫০ জন যাত্রী স্পিডবোট ও ট্রলারে করে চলে গেছে।

এ বিষয়ে বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের উপ-পরিচালক আজমল হুদা সরকার মিঠু জানান, সকাল ৮টায় ৫৫৬ যাত্রী নিয়ে বরিশালের উদ্দেশে রওনা দিয়ে বেলা পৌনে ১টার দিকে হিজলার ধূলিয়া নামক জায়গায় এসে লঞ্চটির সুকানির সমস্যার কারণে বিকল হয়ে যায়। পরে ধূলিয়া নামক লঞ্চঘাট সংলগ্ন একটি চরে আটকে পড়ে ওয়াটার বাসটি।

সন্ধ্যায় চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আব্দুস সবুর মণ্ডল বলেন, ‘বিষয়টি জানতাম না। আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

শেয়ার করুন