শান্তিচুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়ার জন্য সরকার দায়ী : সন্তু লারমা

বাংলা নিউজ ইউকে রিপোর্ট : জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা বলেছেন, পার্বত্য শান্তিচুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়ন না হলে পাহাড়ে কখনোই শান্তি আসবে না। পরিস্থিতি এমন জায়গায় যাচ্ছে তাতে আবারও অশান্ত হয়ে উঠতে পারে পার্বত্য এলাকা। চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় পাহাড়িদের পায়ের নিচে মাটি নেই। চুক্তি করার দুই দশক পরও ন্যূনতম অধিকার নিশ্চিত হয়নি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির দুই দশক পূর্তি উপলক্ষে আজ শনিবার আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন সন্তু লারমা। রাজধানীর ‘দ্য ডেইলি স্টার’ ভবনে এ সভার আয়োজন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি।

সন্তু লারমা বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানের জন্য চুক্তি করা হলেও তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় শান্তি আসেনি। সেনাবাহিনী পাঁচ লাখের বেশি বহিরাগতকে পুনর্বাসিত করেছে পাহাড়ে। ফলে উপজাতিদের বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ হয়নি, হতে পারছেও না।’

শান্তিচুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়ার জন্য সরকারকে দায়ী করে সন্তু লারমা বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম সংশ্লিষ্ট আইন বাস্তবায়ন হয়নি। এজন্য বহুবিধ আইনের সংশোধন প্রয়োজন। যার কোনও উদ্যোগই নেয়নি সরকার। ভোটাধিকারের মাধ্যমে জেলা পরিষদ গঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ভোটার তালিকা না হওয়ায় তিন পার্বত্য জেলায় নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। ভোটার তালিকা প্রণয়নের কথা বারবার বলা হলেও সরকার কোনও উদ্যোগ নেয়নি। সরকার চুক্তি বাস্তবায়ন করতে চায় না।’

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন সন্তু লারমা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘চুক্তির দুই দশক পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা অনেক ক্ষেত্রেই সত্যের অপলাপ। চুক্তি না হওয়ার ফলে প্রতিদিনই নির্যাতিত হচ্ছে পাহাড়ি জনগণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ চুক্তি বাস্তবায়িত না হলে পাহাড়ে আগুন জ্বলবে। মৃতের মতো আমরা বেঁচে থাকতে চাই না। খুব শিগগিরই কর্মসূচিতে যাবো আমরা। চুক্তি পরিপন্থী যে কোনও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’

এ সভায় সভাপতিত্ব করেছেন ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য এবং সঞ্চালনা করেছেন সংগঠনটির সদস্য দীপায়ন খিসা।

সভায় উপস্থিত ছিলেন কলামিস্ট ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাবেক মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. সাদেকা হালিম, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রংসহ আরও অনেকে।

শেয়ার করুন