আজ সারা দেশে দিনভর বৃষ্টি ঝরবে

বাংলা নিউজ ইউকে রিপোর্ট : গতকাল শনিবার রাত নয়টার দিকে এটি লঘুচাপে পরিণত হয়। তবে এর প্রভাবে আজ সারা দেশে সারা দিন বৃষ্টি হবে। তবে রাতে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আজও দেশের বন্দরগুলো ও কক্সবাজার উপকূলকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এটি হয়তো আজ দুপুরের পরে তুলে ফেলা হবে।

গতকাল শনিবার সকাল ছয়টা থেকে আজ রোববার সকাল ছয়টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে চাঁদপুরে, ৬২ মিলিমিটার। একই সময়ে রাজধানী ঢাকায় বৃষ্টির মাত্রা ছিল ১৫ মিলিমিটার।

ডিসেম্বর শুরু হলে হিমালয় পর্বতমালা হয়ে শীতের বাতাস দেশের উত্তরাঞ্চলে চলে আসে। পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও হয়ে শীত ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। ঋতুচক্রের নিয়মে এটাই প্রতিবছর ঘটে। কিন্তু এ বছর শীতের ওই বাতাস ঠেকিয়ে দিচ্ছে বঙ্গোপসাগর। তিন দিন আগে সেখানে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি শীতের ওই বাতাস তো আটকে দিচ্ছেই, সেই সঙ্গে সারা দেশে বৃষ্টি ঝরাচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস হচ্ছে, আজ রোববার এবং আগামীকাল সোমবারও এই বৃষ্টি চলবে। আজ দেশের অধিকাংশ স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিরও সম্ভাবনা আছে। আজ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। তবে দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাত কিছুটা কম হতে পারে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বৃষ্টিপাত বেশি থাকতে পারে। রাতে বৃষ্টিপাত কমে আসতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মিজানুর রহমান বলেন, আজ সকাল নাগাদ বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ভারতের ওডিশা ও অন্ধ্র উপকূলে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এতে বিকেল থেকে বৃষ্টিপাত কমে আগামীকালের মধ্যে আবহাওয়া স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে। তবে আগামীকাল দেশের কিছু কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

দেশের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার দুর্ভোগ ছিল আরও বেশি। সেন্ট মার্টিন দ্বীপে প্রায় ৬০০ পর্যটক আটকা পড়েছেন। টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন পর্যন্ত সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ছিল। এতে টেকনাফেও সেন্ট মার্টিনের প্রায় ৩৫০ বাসিন্দা আটকা পড়েছেন। একই অবস্থা রয়েছে কক্সবাজার ও কুয়াকাটা এলাকায়ও। পর্যটকেরা বাইরে বের হতে পারেননি।

শীতের আগে বৃষ্টিতে রাজধানীবাসীর ভোগান্তির অন্ত নেই। গত এক মাসের অনাবৃষ্টিতে রাজধানীতে ছিল ধুলার রাজত্ব। ঘরদোর, অফিস, বাজার, পথঘাট সব জায়গা ধূসরিত। ধুলার ভয়ে মুখ না ঢেকে চলা দায় ছিল। বৃষ্টিতে এতদিন অতিষ্ঠ করে রাখা দাপুটে ধুলা কাদায় রূপ নিয়ে যন্ত্রণা দিচ্ছে। পথ-অলি-গলি কাদায় মাখামাখি হয়ে গেছে। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে বৃষ্টির কারণে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রাজধানীবাসীকে। জলাবদ্ধতা না হলেও বৃষ্টির কারণে যানজট সৃষ্টি হয়েছে নগরীর বিভিন্ন সড়কে।

শেয়ার করুন