শিক্ষক অনশনের তৃতীয় দিন : অসুস্থের সংখ্যা বাড়ছে…

নিজস্ব প্রতিনিধি : গতকালের মতো আজও শিক্ষকরা শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়েছে তাদের দাবি আদায় করতে।

তীব্র এই শীতে খোলা যায়গায় কম্বল বা বিছানা ছাড়াই অনশন করছেন বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারি শিক্ষকরা। এরই মধ্যে অনেক শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আরও ৩ জন শিক্ষক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। সকাল ১১টার দিকে তাদের ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তারা হলেন- নিতন্ত সরকার (কমলকান্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়), কাকলি দে (রসুলপুর প্রাথমিক সরকারি বিদ্যালয়), প্রগ্যালা মনি (বরিশাল উচ্চ হারা প্রাথমিক বিদ্যালয়)।

এর আগে  আরও ৬৫ জন অসুস্থ হয়েছেন। এর মধ্যে ৩৩ জন অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বেশ কয়েকজনকে স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে।

সহকারী শিক্ষক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি নুরুল বাংলা নিউজ ইউকে ডটকম‘কে বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেলের পার্থক্য রেখেছিলেন এক ধাপ। তখন প্রধান শিক্ষকের বেতন ছিল ৭৫ টাকা আর সহকারী শিক্ষকের ছিল ৬৫ টাকা।

তাদের দাবি, ২০০৬ সালে এসে বেতনের পার্থক্য এক ধাপ থেকে দুই ধাপ করা হয়। এরপর ২০১৪ সালে প্রধান শিক্ষকদের পদমর্যাদা দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করা হলে তিন ধাপ পার্থক্য তৈরি হয়। বর্তমানে প্রধান শিক্ষকরা ১১তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। আর সহকারী শিক্ষকরা ১৪তম গ্রেডেই পড়ে আছেন।

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারি শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. শামসুদ্দিন মাসুদ আজ রাত ১০টায় বাংলা নিউজ ইউকে ডটকম‘কে জানিয়েছেন, দ্বিতীয় দিনের মতো আজ রাতেও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান করছি। তিনি বলেন, আজ তৃতীয় দিন আমরা আন্দোলন করছি কিন্ত এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোন দায়িত্ববান ব্যক্তি আমাদের কাছে আসেনি। আমাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে তারা কোন কর্ণপাত করছে না। আমরা দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরবো না।

কর্মসূচিতে সহকারী শিক্ষক সমাজ, সহকারী শিক্ষক সমিতি, সহকারী শিক্ষক ফাউন্ডেশন, সহকারী শিক্ষক সমাজ-২, সরকারি সহকারী শিক্ষক সমিতি, সহকারী শিক্ষক সমাজ-৩, সহকারী শিক্ষক সমিতি-২, সহকারী শিক্ষক ফোরাম, সহকারী শিক্ষক ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ব্যানারে শিক্ষকরা অংশ নিয়েছেন।

শেয়ার করুন