সিলেট, ফেঞ্চুগঞ্জের অালোকিত রাজনীতিবিদ মরহুম তজমুল অালী চেয়ারম্যান : রাজা সায়মন

ষাট থেকে নব্বই দশকের রাজনীতিতে সিলেটস্থ ফেঞ্চুগঞ্জ ‘র মাটিতে বেড়ে ওঠা অন্যতম সাংগঠনিক কৌশলী, আদর্শের রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুর প্রিয়ভাজন, সর্বজন স্বীকৃত আওয়ামী নেতা এবং ২ নং মাইজগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সফল চেয়ারম্যান মরহুম তজমুল আলী চেয়ারম্যান, যিনি তার যোগ্যতার জোরে ১৯৬৮ সালে ছাত্রলীগ থেকে সরাসরি ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা অাওয়ামীলীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হোন।
তারুণ্যে ভরপুর তজমুল অালী ছিলেন বঙ্গবন্ধুর অাদর্শে অনুপ্রাণিত কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের পথপ্রদর্শক।
জয়বাংলার এই গণমানুষের নেতা ১৯৭০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মানপত্র পাঠ করে শুনান এবং বঙ্গবন্ধু ওনার মাথায় হাত রেখে বলেন- তজমুল অালী একদিন জাতীয় নেতা হবেন। বঙ্গনেতা যে রত্ন চিনতে ভুল করেননি, সেই তজমুল অালী মুজিব বাহিনীর অন্যতম একজন সদস্য হিসেবে স্বাধীন বাংলা গঠন এবং তার নির্মাণে বঙ্গবন্ধুর অাদর্শের সৈনিক হিসেবে ভূমিকা পালন করেন…।
১৯৭২ সালে তজমুল অালী ফেঞ্চুগঞ্জের ২ নং মাইজগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার নির্বাচিত হোন,যেখানে তৎকালীন সময়ের চেয়ারম্যান অপেক্ষা তিনি তুলনামূলকভাবে অনেক বেশী ভোট পেয়েছিলেন এবং তার সেই জনপ্রিয়তা সকলকে অবাক করে দেয়…।
১৯৭২ সালে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম এ জি ওসমানী ফেঞ্চুগঞ্জ নেমেই তজমুল অালীর তলব করেন। সেনানায়কখ্যাত জেনারেল ওসমানী সাহেব বলেন ” অামি তজমুল কে দেখছিনা, খবর দাও ” বলে ডেকে নিয়ে সাক্ষাৎ করেন।
১৯৭৪ সালে তিনি ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হোন। সেসময় তিনি অত্যন্ত সততা এবং নিষ্ঠার সাথে প্রতিটি দায়িত্ব পালন করেন। তার ন্যায়পরায়ণতার স্বীকৃতিস্বরূপ তজমুল অালী প্রাথমিক অবস্থা থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করেন এবং প্রশংসিত হোন।
১৯৭৫ সালের ১৫ ই অাগষ্ট তজমুল অালী তার জীবনের সবচেয়ে বড় অাঘাত পান। তবুও থেমে থাকেননি তজমুল অালী। ১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগষ্ট জনসম্মুখে তজমুল অালী প্রতিবাদ করেন এবং মিলাদ মাহফিল পড়ান। ফেঞ্চুগঞ্জের মুহিব উদ্দিন বাদল, সামছুদ্দীন কুমী সহ ১০-১১ জন বঙ্গবন্ধু সৈনিক তখন সাহসী হয়ে ওঠেছিলেন এবং রাজপথ কাঁপিয়েছিলেন। পরদিন ফেঞ্চুগঞ্জ ১৪৪ এর শান্ত আইন ভাঙতে তজমুল অালীর সবচেয়ে কাছের মানুষ ডাঃ মিনহাজ উদ্দিন ,আব্দুল লতিফ, এড. এমলেন্দু, এ আর সেলিম, ফিজিক্যল স্যার, নাসির উদ্দিন রতন সহ অনেকেই মৃত্যুমুখে ডাকবাংলায় জয় বাংলা বলে মোস্তাক সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। উত্তপ্ত ফেঞ্চুগঞ্জের সেই প্রতিবাদের ভাষা অনুপ্রাণিত করেছিল বঙ্গবন্ধুপ্রেমী সকল কৃষক-শ্রমিকদেরও…।
১৯৭৭ সালে তিনি পুনরায় ইউপি মেম্বার নির্বাচিত হোন এবং তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়া-উর রহমানের অভিনন্দন গ্রহণ করেন। সাধারণ জনতার অাশা অাকাঙ্ক্ষার বাস্তব প্রতিফলনের ধারক এবং বাহক ছিলেন তজমুল অালী।
১৩ জুলাই ১৯৭৯ সালে তিনি আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় তজমুল অালী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক দলপতি পত্র ( সম্মাননা স্মারক) গ্রহণ করেন।
১৯৭৯ সালে তিনি ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু মরহুম অাব্দুল লতিফকে তিনি এতো সম্মান করতেন এবং বড় মানতেন, তাই তিনি তখনই উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রথম সাংগঠনিক পদ গ্রহণ করেন। যা বর্তমান রাজনৈতিক চিত্রে বিরল…।
১৯৮০ সালে তিনি ফেঞ্চুগঞ্জ সারকারখানা শ্রমিকলীগের সভাপতি নির্বাচিত হোন এবং সারকারখানা শ্রমিকদের দাবি অাদায়ে তীব্র অান্দোলন শুরু করেন।
সর্বদলের কাছে সম্মানের পাত্র এই জননেতা ১৯৮৪ সালে সিলেট সদর আওয়ামীলীগের সাঃ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৮৫ সালের ২৭ শে মার্চ তিনি বিবাহ বন্ধনে অাবদ্ধ হোন।
১৯৮৯ সালে তিনি অাওয়ামীলীগকে সুন্দর একটি গাঠনিক রূপ দেয়ার স্বার্থে ২নং মাইজগাঁও আওয়ামীলীগে যোগদান করেন। উল্লেখ্য, সেসময় তিনি সেচ্চায় সাংগঠনিক পদ ছেড়ে দিয়ে মাইজগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
১৯৯১ পরবর্তীতে তজমুল অালী ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা গণদাবী পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক এবং সারকারখানা রক্ষা আন্দোলনে রাজপথ দখলে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। যেখানে অাব্দুল লতিফ, ডাঃ মিনহাজ এবং লুৎফুর রহমান তার ঘনিষ্ট পরিকল্পনা সঙ্গী ছিলেন।
শ্রমিকসমাজের প্রিয় নেতা তজমুল অালী সর্বপ্রথম ফেঞ্চুগঞ্জ সারকারখানায় স্থানীয় শ্রমিকদের চাকুরীর দাবী জানান। সেদিন তজমুল অালীর যুক্তি এবং সাহসিকতাপূর্ণ নেতৃত্ব স্থানীয় শ্রমিকদের মুগ্ধ করেছিল…।
তজমুল অালী অসংখ্য সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক ক্লাবের সভাপতি /সম্পাদক ছিলেন। ক্রীড়াঙ্গনের মান উন্নয়নে তজমুল অালী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তজমুল অালী ছিলেন ডাক্তার মিনহাজ উদ্দীন এবং মরহুম আব্দুল লতিফ মহোদ্বয়ের আত্মা। ওনার বন্ধু বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন রতন, যিনি ছিলেন পৃর্ব বাংলা ছাত্রলীগ ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার প্রথম সভাপতি এবং স্বাধীন বাংলা উপজেলা ছাত্রলীগেরও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
এসএসসি পাশ করেন কাসিম অালী উচ্চ বিদ্যালয় হতে এবং মরহুম তজমুল অালী ফেঞ্চুগঞ্জ থানা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠ সভাপতি নির্বাচিত ।
বিভিন্ন সালিশে দল মত নির্বিশেষে তজমুল অালীর রায় ন্যায়বিচার ব্যবস্থাকে অালোকিত করেছিল। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে নারী-শিশু-শ্রমিক অধিকার বাস্তবায়নে তজমুল অালী তার অবস্থান থেকে সর্বোচ্ছ ভূমিকা পালন করেন।
অতি অল্প সময়ে দেশের শ্রেষ্ঠ ২৪ জন চেয়ারম্যানদের অন্যতম একজন নির্বাচিত হওয়া সহ ফেঞ্চুগঞ্জ সারকারখানা বর্জ্য পদার্থ সম্পৃক্ত পরিবেশ রক্ষা অান্দোলনে তজমুল অালী চেয়ারম্যান অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখে মাটি ও মানুষের গান গেয়ে যাওয়া তজমুল অালী সেই লক্ষ্যে কাজ করতেন, যে পরিবর্তন সমাজের উন্নয়নের মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে…।
২৯ নভেম্বর ১৯৯৭ সালের দৈনিক মানচিত্রের ভাষ্যমতে তজমুল অালী এমন এক নেতা, যিনি মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত মানুষের গান গেয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষ মানুষের জন্য এবং সবার ওপরের মানুষ সত্য। মরহুম তজমুল অালী চেয়ারম্যান এমন পরিবর্তন চেয়েছিলেন, যা মানুষকে তার ব্যক্তিত্ব, তার সত্ত্বা, তার মূল্যবোধ, তার অধিকার প্রভৃতি সম্পর্কে সচেতন রাখবে। যে পরিবর্তন মানুষের ক্ষেত্রে তার সামগ্রিক চিন্তা চেতনায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে। যে পরিবর্তন সমাজের উন্নয়নের চিন্তা চেতনার সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
এলাকার উন্নয়নে তজমুল অালী চেয়ারম্যান প্রত্যেক এলাকা ঘুরে এলাকার মুরব্বীয়ান এবং যুবক ভাইদেরকে নিয়ে প্রথমে এলাকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতেন এবং পর্যায়ক্রমে গুরুত্ব অনুসারে সমস্যাগুলো সমাধান করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন।
১৯৯৯ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি তিনি ২ নং মাইজগাঁও ইউপির চেয়ারম্যান এবং অাওয়ামীলীগ সম্পাদক থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
শতশত নেতা গড়ার কারিগর তজমুল আলী তৈরি করেন আব্দুল বাছিত টুটুল, আব্দুর রহিম বাদশা, সালেক আহমেদ, মুহিবুদ্দিন বাদল, বেলায়েত খান, মামুন আহমেদ নেওয়াজ, ময়নুল ইসলাম, মীর সাখাওয়াত হোসেন তরু, আতাউর রহমান চৌঃ এর মতো নেতাদের, যারা কিনা প্রত্যেকে বঙ্গবন্ধুর অাদর্শে বিশ্বাসী এক-একজন দক্ষ রাজনীতিবিদ এবং সংগঠক।
রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তজমুল অালী একজন প্রবীণ অাওয়ামীলীগার হলেও অন্যান্য দলের বিভিন্ন প্রতিপক্ষ নেতৃত্বের মুখেও তজমুল অালী বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্নভাবে প্রশংসিত হোন। তজমুল অালীর অান্তরিকতা প্রমাণ করে বঙ্গবন্ধুর অাদর্শ প্রতিহিংসায় বিশ্বাস করে না, বঙ্গবন্ধুর অাদর্শ একতা এবং সফলতায় বিশ্বাস করে…।
স্থানীয় প্রবীণ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান গৌছ সুলতান অাব্দুর রশীদ ভূইয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম বাছিত চেয়ারম্যান, সাবেক চেয়ারম্যান সুফিয়ানুল করীম চৌঃ, রাজনীতিবিদ তছলিম অাহমদ নেহার, এফডিসির সাবেক জিএস অাব্দুল মতিন, অাব্দুল অাহাদ খান জামাল, প্রয়াত মাহবুবুর রহমান চৌধুরী (মিলিটারি স্যার), প্রয়াত অালকাস অালী খান ওরফে অালকু মিয়া, প্রয়াত অাসরব অালী মেম্বার, রওশন মেম্বার, প্রয়াত কাজল মাস্টার, প্রয়াত হাজী মনতাজ অালী, প্রয়াত অাব্দুর রহিম, হাজী অাব্দুল করিম আব্দুল্লাহ, অাজাদ মাস্টার, প্রয়াত অাইয়ূব অালী মেম্বার, প্রয়াত ফাতির অালী, প্রয়াত অাঞ্জুব অালী, প্রয়াত বাতির অালী, প্রয়াত মোশাহিদ অালী, প্রয়াত শাহ অাবুল লেইছ, প্রয়াত মুন্সী মছদ্দর অালী, প্রয়াত এরশাদ অালী, প্রয়াত হাজী দরছ মিয়া, প্রয়াত অাফতাব অালী, প্রয়াত অাব্দুল কাইয়ুম, মোস্তফা চৌঃ, মজনু চেয়ারম্যান, প্রয়াত মানিক মিয়া, অাব্দুল গণি ওরফে ভাগু মিয়া, প্রয়াত অাব্দুস সালাম চৌঃ, সিদ্দেক অালী, প্রয়াত ছালাউদ্দিন মাস্টার, প্রয়াত ওয়াহিদ অালী, প্রয়াত ইসরাইল মাস্টার, প্রফেসর অমরিকা নাথ, নকুল মাস্টার, দিগেন্দ্র দেব, উপেন্দ্র দেব, এ অার দাস, প্রয়াত এম অাই চৌঃ, ইসকন্দর অালী, প্রয়াত লেদু মেম্বার, প্রয়াত মফক্কর চৌঃ, অাব্দুল মুকিত মেম্বার, নন্দ ঠাকুর, মানিক বাবু, অাফতাব অালী চেয়ারম্যান, অম্রিকা পাল, মাহমদ অালী সহ এলাকাবাসীর এই প্রিয়মুখ- জননেতা মরহুম তজমুল আলী চেয়ারম্যানের নামে ৩ জুন ২০১৭ সালে ফেঞ্চুগঞ্জের কচুয়াবহর-মির্জাপুরস্থ সড়কের নামকরণকালে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য, জাতীয় সংসদের প্যানেল স্পীকার, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এমপি তজমুল অালীকে রাজনীতিতে অাদর্শের মাইলফলকরূপে অাখ্যায়িত করেন এবং অতিসুন্দরভাবে তজমুল অালীর রাজনৈতিক জীবনের অাদর্শ এবং স্বচ্ছতার কিছু চমৎকার মুহূর্ত নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরেন…।
উল্লেখ্য, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল কয়েস, বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদক শহীদুজ্জামান ছুুটু, ২ নং মাইজগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মঈন উদ্দীন আহমদ, ২ নং মাইজগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালিক শাইস্তা, মরহুম তজমুল আলী চেয়ারম্যানের ভ্রাতা প্রয়াত শেখ ওয়াতির আলী, বিজয় রঞ্জন দে, প্রবীণ শিক্ষক উৎপলা পীড় দে মিন্টু, ফজলু মিয়া, এ কে আজিজুল্লাহ সঞ্চন, ২ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ, বিশিষ্ট মুরব্বী ফজলু মিয়া, অামির অালী হুজুর, ফেঞ্চুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ, সালেক অাহমদ, নিউজার্সি আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজান আহমদ শাহ্, বোরহান উদ্দিন, মাহবুবুল ইসলাম চৌধুরী মিসলু, মোমিনুল হাসান সহ এলাকার প্রবীণ মুরব্বীদের উপস্থিতিতে এলাকাবাসীরা তখন পালবাড়ী স্কয়ারের নাম মরহুম তজমুল অালী স্কয়ার থাকলেও কালের পরিক্রমায় বিলুপ্তপ্রায় এই সাইনবোর্ডকে পুনরায় সরকারীভাবে মরহুম তজমুল অালী চেয়ারম্যান স্কয়ার নামকরণের দাবি জানান।
এছাড়াও সাবেক রাষ্ট্রপতি হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ, প্রবীণ অাওয়ামীলীগার অাব্দুস সামাদ অাজাদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা প্রয়াত দেওয়ান ফরিদ গাজী , বাংলাদেশের একজন খ্যাতনামা কূটনীতিবিদ এবং জাতীয় সংসদের সাবেক স্পীকার প্রয়াত হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী, প্রয়াত অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া, প্রয়াত অর্থ ও পরকল্পনা মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, বর্ষীয়ান নেতা অামির হোসেন অামু, প্রয়াত বাবু সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, প্রয়াত সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মহসিন অালী, ডাঃ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা অাব্দুর রাজ্জাক, সাবেক ডাকসু ভিপি সুলতান মোঃ মনসুর অাহমেদ, প্রয়াত পীর হাবিবুর রহমান, এড. লুৎফুর রহমান, অাশফাক অাহমেদ, অাসকির খান, কামাল হোসেন, সাবেক সাংসদ জেবুন্নেসা হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ অাজিজুর রহমান ( মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক), অাওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক এড মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সাবেক সাংসদ শফি অাহমদ চৌঃ, সাবেক সাংসদ মুকিত খান,রাজনীতিবিদ কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেটের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন অাহমদ কামরান, সিলেট মহানগর অাওয়ামীলীগ সম্পাদক অাসাদ উদ্দিন অাহমদ সহ দেশ এবং বিদেশের বিভিন্ন দলের সিনিয়র নেতাদের দৃষ্টিতে মরহুম তজমুল অালী ছিলেন বঙ্গবন্ধুর অাদর্শে বিশ্বাসী এক গণমানুষের নেতা।
সর্বদল স্বীকৃত অাওয়ামী এই নেতার প্রশংসায় পঞ্চমুখরিত ফেঞ্চুগঞ্জের প্রকৃতি। এছাড়াও ফেঞ্চুগঞ্জের মাটিতে রয়েছে মরহুম ডাঃ নুরুল হোসেন চঞ্চল, মরহুম অাব্দুল লতিফ, মরহুম ডাঃ মিনহাজ উদ্দিন অাহমেদ সহ প্রবীণ অাওয়ামীলীগারদের অবদান, যারা রয়েছেন ফেঞ্চুগঞ্জ অাওয়ামীলীগের অস্তিত্বে।
মরহুম শেখ তজমুল অালী চেয়ারম্যান মৃত্যুকালে স্ত্রী সহ চার সন্তান রেখে যান। মরহুম তজমুল অালীর বড় ছেলে শ্রমিক নেতা দিদারুল হাসান সিহাব, প্রবাসী সাংবাদিক শেখ কামরুল হাসান শাহান, শেখ বদরুল হাসান শাওন ও ফয়েজুল হাসান ফারহান।
ফেঞ্চুগঞ্জের মাটি ও মানুষের একতা এবং অান্তরিকতা তজমুল অালীর মৃত্যুর পরও ধরে রেখেছে তাকে ইতিহাসের পাতায়।
শেয়ার করুন