১৯৬১ সাল থেকেই প্রশ্নপ্রত্র ফাঁস দেখে আসতেছি : শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি : শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন- সেই একষট্টি সালে তিনি যখন ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিয়েছেন তখনও প্রশ্নপত্র ফাঁস হত। এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে প্রশ্ন ফাঁসের খবর দ্রুত প্রচার হয়ে যায় বলে মনে করছেন তিনি।

সচিবালয়ে আজ শনিবার জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার ফলপ্রকাশ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

নাহিদ বলেন, ‘আমি ১৯৬১ সালে ম্যাট্রিক (বর্তমানে এসএসসি) পরীক্ষা দিয়েছি’। কত বছর অনুমান করেন? একষট্টি সাল! তখন থেকেই প্রশ্নপ্রত্র ফাঁস দেখে আসতেছি। তখন ছিল সীমাবদ্ধ। সেই সময় ফাঁস হইত, বিক্রি হইত, চলত।

প্রশ্নপ্রত্র ফাঁস নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এটা আমি বহুবার বলছি, এক কথা বার বার বলা। এটা মন হচ্ছে যেন এই আধুনিক একটা পদ্ধতি চালু হয়েছে, আগে কখনও, জীবনে প্রশ্ন ফাঁস হয় নাই।

এখন প্রশ্ন ফাঁসের পর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দ্রুতই প্রচার হচ্ছে বলে মনে করেন নাহিদ।

এখন নানা রকম সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা … মাধ্যমে দ্রুতই প্রচার হয়ে যায়। যদি না ফাঁসও হয়, আমি খালি একটা ফেইসবুকে লিখে দেই- প্রশ্ন আউট হয়ে গেছে আর কিছুই লাগবে না ওইটা ধরেই ব্যাপক প্রচার হয়ে যাবে। আমি না করতেছি না।

প্রশ্ন ফাঁসরোধে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে জানিয়ে নাহিদ বলেন, বিজি প্রেস ছিল আগে সহজ। তাই দুই মাস পরে যে পরীক্ষা হবে আজকেই প্রশ্নপত্র পেয়ে যাচ্ছি। আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করছেন, কোনো প্রশ্নপত্রই পরীক্ষার দুই মাস আগে ফাঁস হয় না, ওইদিন (পরীক্ষার দিন) সকালে আউট হয়। মোটাটুটি এই জায়গায় চলে আসছি আমরা।

বিজি প্রেসে আমরা ব্যাপক পরিবর্তন করছি, ওখান থেকে এখন প্রকাশের সুযোগ নাই। আমরা জেলায় পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিরাপদ করেছি, থানায় পৌঁছানো নিরাপদ করেছি। … এরপরেও সমস্যা আছে, অনেক লোক শিক্ষকতায় ঢুকে পড়েছেন, তারা অপব্যবহার করেন।

অষ্টম শ্রেণির সমাপনীতে এবার ৮৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ৯১ হাজার ৬২৮ জন।
গত বছর এই পরীক্ষায় ৯৩ দশমিক ০৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল। আর জিপিএ-৫ পেয়েছিল দুই লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৮ জন।

গতবারের থেকে এবার পাসের হার ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে। আর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৫৫ হাজার ৯৬০ জন।

শেয়ার করুন