নিউইয়র্কে বাংলাদেশী-আমেরিকান কালচারাল এসোসিয়েশনের বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান সম্পন্ন

প্রবাস ডেস্ক : নিউইয়র্কে বাংলাদেশী-আমেরিকান কালচারাল এসোসিয়েশনের বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়শনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট মুক্তিযুদ্ধা এডভোকেট শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, রাজনীতিকদের লোভের কারণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ আজো গড়া সম্ভব হয়ে ওঠেনি। গত ২৪ ডিসেম্বর রোববার রাতে নিউইয়র্কে ব্রঙ্কসের বাংলা গার্ডেন রেষ্টুরেন্টে যুক্তরাষ্ট্রে বাঙালীদের অন্যতম এ সামাজিক সংগঠনটির চমৎকার আয়োজনে বাংলাদেশের ৪৬তম মহান বিজয় দিবস উদযাপন করে।উৎসবমুখর পরিবেশের এ আয়োজনে ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।‘সাত সমুদ্র তের নদী বাঙালিয়ানা নিরবধি’ স্লোগানে এগিয়ে যাওয়া সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল হাসিম হাসনুর সভাপতিত্বে এ বিজয় উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধা এডভোকেট শ ম রেজাউল করিম। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণসম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকি, প্রবীণ সমাজসেবী আব্দুর রব দলা, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন আহমদ সোহাগ, স্কুল ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব, বাংলা সাংস্কৃতিক স্কুল ’আমাদের পাঠশালা’র প্রধান মনিকা মন্ডল, সমাজকর্মী সুপ্রিয়া নন্দি, রাজনীতিবিদ কফিল চৌধুরী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কবি জালাল উদ্দিন।সংগঠনের বিজয় দিবস উদযাপন কমিটির আহবায়ক সারওয়ার চৌধুরীর পরিচালনায় এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আহবাব চৌধুরী খোকন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কমিউনিটি এক্টিভিস্ট শামীম মিয়া, সেবুল খান মাহবুব, সোহেল আহমদ, আবুল খায়ের আকন্দ, রেহানুজ্জামান, শাহ বদরুজ্জামন রুহেল, জে মোল্লা সানী, মোহাম্মদ সাদী মিন্টু, অনুষ্ঠান সমন্বয়কারী মাকসুদা আহমদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ’আমাদের পাঠশালা’র খুদে শিশু-কিশোররা বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত ও আমেরিকার ন্যাশনাল এনথাম পরিবেশন করে।অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষন ছিলো ’আমাদের পাঠশালা’র শিশু-কিশোরদের পরিবেশনায় কবিতা আবৃত্তি ও দেশাত্মবোধক গান। অনুষ্ঠানে তিনটি গ্রুপে চল্লিশটি শিশু-কিশোর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে। এই প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক সুনিয়া কাদির, মাকসুদা আহমদ, জে মোল্লা সানি ও শামিম মিয়া। এতে প্রত্যেকটি গ্রুপে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী ৯জনকে ট্রপি এবং অংশ গ্রহণকারী সকল শিশু কিশোরদের সান্তনা পুরস্কার প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সহ সকল বক্তা শিশু কিশোরদের নিয়ে এই জাতীয় অনুষ্ঠান আয়োজনে আয়োজকদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।প্রধান অতিথি এডভোকেট শ ম রেজাউল করিম বলেন, যে প্রত্যাশা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছিল সে বাংলাদেশ আজ অনেক এগিয়ে গেছে। কিন্তু কাঙ্খিত অর্জন এখনো সম্ভব হয়নি রাজনীতিকদের ব্যর্থতার কারণে। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা একটি স্বাধীন দেশ উপহারদিয়েছেন। রাজনীতিকদের লোভের কারণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ আজো গড়া সম্ভব হয়ে ওঠেনি। স্বাধীনতাবিরোধীদের বিভিন্নভাবে পুনর্বাসন করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নস্যাৎ করা হয়। তিনি নতুন প্রজন্মের নিকট মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানের শেষার্ধে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আহবাব চৌধুরী খোকন ও অনুষ্ঠান সমন্বয়কারী মাকসুদা আহমেদের জন্ম দিন উদযাপন করা হয়। মাকসুদা আহমদ এবং আহবাব চৌধুরী তাদের বক্তব্যে এ আয়োজনের জন্য সংগঠনের নের্তৃবৃন্দ বিশেষ করে মোহাম্মদ সাদী মিন্টু ও জে মোল্লা সানীকে এ জন্য ধন্যবাদ জানান।গভীর রাত পর্যন্ত দর্শক-শ্রোতারা অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন আয়োজক সংগঠনের কর্মকর্তারা।

শেয়ার করুন