সিঙ্গাপুরের প্রথম বাংলাদেশী বিচারপতি বালাগঞ্জের আনোয়ারুল হক

এসএম হেলাল : সিলেটের বালাগঞ্জের আলোকময় এক ব্যক্তির নাম আনোয়ারুল হক। যিনি সিঙ্গাপুর বিচার বিভাগের বিচারপতি হিসেবে প্রথম বাংলাদেশী। তিনি ছাড়াও তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা সেই দেশের আইন, শিক্ষাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পেশার সাথে জড়িত থেকে দেশ ও এলাকার নাম উজ্জ্বল করছেন।

আনোয়ারুল হকের পৈত্রিক নিবাস সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার দেওয়ান বাজার ইউনিয়নের বশিরপুর গ্রামের মাষ্টার বাড়ী। তিনি মরহুম মাষ্টার মনির উদ্দিনের প্রথম সন্তান। তাঁর দাদার নাম মুন্সি নছির উদ্দিন। তাঁর পিতা স্বপরিবারে ১৯৩৯ সালে সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমান এবং স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করলে সেখানেই জন্ম হয় বিচারপতি আনোয়ারুল হকের।

অধম্য মেধাবি আনোয়ারুল হক সেখানেই আইন বিষয়ে লেখাপড়া করেন। এবং ১৯৬৫-১৯৭৩ সাল পর্যন্ত তিনি সিঙ্গাপুরের আইন ও বিচার বিভাগে ম্যাজিস্ট্রেট এন্ড ডিস্ট্রিক জর্জ হিসেবে কর্মরতর পাশাপাশি অন্যান্য আইনি সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। ছোট বেলা থেকেই লেখাপড়ায় মেধাবী এই ব্যক্তি লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও ছিলেন খুব আগ্রহী।

তিনি একসময় সিঙ্গাপুর জাতীয় হকি দলের গোলকিপারের ছিলেন। এমনকি সিঙ্গাপুর হকি দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন এসইএ গেমস ও এসিয়ান গেমস-এ…।

এছাড়া ১৯৬৪ সালে টোকিও অলিম্পিক গেমসে সেদেশের প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি সেই দেশের হয়ে পতাকা বহন করার গৌরব অর্জন করেন।

তিনি একাধারে একজন দক্ষ সংগঠক হওয়ায় সিঙ্গাপুর হকি এসোসিয়েশন এর প্রেসিডেন্ট (১৯৮৬-১৯৯২) ও দেশের অন্যতম প্রাচীন ক্লাব ‘সিঙ্গাপুর ক্রিকেট ক্লাব’ এর প্রেসিডেন্টেরও দায়িত্ব পালন করেন (২০০১-২০০৮) সাল পর্যন্ত।

একটি অভিজাত শিক্ষিত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করা বিচারপতি আনোয়ারুল হকের পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও আইন, শিক্ষকতা ও অন্যান্য পেশায় জড়িত। তাঁর ছোট ভাই হামিদুল হক সেই দেশে একজন সুনামধন্য ব্যারিষ্টার।

তিন সন্তানের জনক হামিদুল হকের প্রথম পুত্র শেহজাদ হক সিঙ্গাপুর জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক খেলোয়াড় ও বর্তমানে ইএসপিএনের ধারাভাষ্যকার।

তাঁর চাচাত ভাই বুরহান উদ্দিন সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের সাপ্লাইজ এগজিকিউটিভ সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত ছিলেন। বাংলাদেশে অবস্থানরত তাঁর চাচাত ভাই মরহুম জহুর উদ্দিন আহমদ একজন শিক্ষানুরাগী ও সমাজকর্মী হিসেবে বেশ পরিচিত ছিলেন।

মরহুম জহুর উদ্দিন মুমিনপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সম্মানিত দাতা সদস্য এবং একাধারে বশিরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মুমিনপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন দীর্ঘকাল তাঁর জীবদ্দশায় ।

মরহুম জহুর উদ্দিন আহমদের বড় ছেলে মুহাম্মাদ বদরুজ্জামান একজন অধ্যাপক। তিনি বর্তমানে গোয়াইনঘাট ডিগ্রি কলেজে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। মেজ ছেলে লেখক, সাংবাদিক মুহাম্মাদ শরীফুজ্জামান ও ছোট ছেলে মুহাম্মাদ সাইফুজ্জামান দু’জনই যুক্তরাজ্য প্রবাসী।

বিদেশে অবস্থান করলেও দেশের স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও মানুষের সাথে রয়েছে তাঁদের গভীর বন্ধন।

শেয়ার করুন