ঢাকা উত্তরে উপনির্বাচন : প্রার্থিতা জমার আগেই ভোট নিয়ে রিজভীর শঙ্কা

ঢাকা :: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে উপ-নির্বাচনে প্রার্থিতা জমা দেয়ার আগেই ভোট নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী। তার দাবি, সুষ্ঠু ভোটের কোনো পরিবেশ নির্বাচনী এলাকায় নেই।

২৬ ফেব্রুয়ারিকে ভোট ধরে মঙ্গলবার তফসিল ঘোষণার পরদিন বুধবার দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।

রিজভী বলেন, ‘ডিএনসিসি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলেও এখন পর্যন্ত সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নির্বাচনী এলাকায় নেই। বিরোধী দলগুলোর সভা-সমাবেশ দূরে থাক, মতবিনিময় সভা করার মতোও পরিবেশ নেই।’

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৮ জানুয়ারির মধ্যে প্রার্থিতা জমা দিতে হবে। আগামী শনিবার বিএনপি প্রার্থী ঘোষণা করবে বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আর আওয়ামী লীগ প্রার্থী চূড়ান্ত করতে বৈঠকে বসছে ১৬ জানুয়ারি।

তবে রিজভী মনে করেন, আদৌ ঢাকা উত্তরে নির্বাচন হবে কি না এ নিয়ে আর সংশয় আছে।

‘শঙ্কা ও সংশয়ের মধ্যেই তফসিল ঘোষণা হয়েছে। হঠাৎ আইনি মারপ্যাঁচ দেখিয়ে নির্বাচনকে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা হয় কি না, তা নিয়ে জনমনে গভীর সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।’

মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে ফাঁকা হওয়া মেয়র পদ পূরণ ছাড়াও ২৬ ডিসেম্বর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির ১৮টি করে নতুন ৩৬ ওয়ার্ডের সাধারণ নির্বাচনও একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। ইউনিয়ন ভেঙে নগরে যোগ হওয়া এলাকাগুলোর নাগরিকরা তাদের কাউন্সিলর নির্বাচন করবেন এদিন।

খালেদার ১৪ মামলা বিশেষ জজ আদালতে কেন?

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ১৪টি মামলা বকশীবাজারের বিশেষ আদালতে স্থানান্তরেরও সমালোচনা করেন রিজভী।

বিএনপি নেত্রীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত সৃষ্টি এবং তাঁকে হয়রানি-হেনস্তা করতেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন বিএনপি নেতা।

‘নতুন মামলাগুলো বকশীবাজারে স্থানান্তরের উদ্দেশ্য হলো খালেদা জিয়াকে প্রতিনিয়ত হয়রানির মধ্যে রাখা এবং অবিরামভাবে হেনস্তা করা। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আবারও একতরফা করতে যে যড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা চলছে, এটিও তার অংশ।’

গত সোমবার খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা বকশীবাজারে বিশেষ জজ আদালতে স্থানান্তর করে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়।

আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, নিরাপত্তার জন্যই ওই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তার মতে, পুরান ঢাকার জজকোর্ট প্রাঙ্গন একটি জনবহুল ব্যস্ত এলাকা। সেখানে খালেদা জিয়ার যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না।

তবে রিজভী বলেন, ‘এটি প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ। ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে বিচারকাজ পরিচালনা করার গভীর ষড়যন্ত্র।’

শেয়ার করুন