আদালতে সইবন হত্যায় সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে জাকির

 ডেস্ক ::

জাকির হোসেনসহ ব্যবসায়ী সৈবন হত্যায় যুক্ত ৪ ঘাতকের ৩জনের বাড়ি সিলেটে, একজন ঘাতক সিলেটের বাইরের। শনিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে জাকির। আদালত তার জবানবন্ধি রেকর্ড করেন।

২৬ এপ্রিল রাত ১০টায় সৈবনকে গলা কেটে হত্যা করা হয় জানিয়ে বিয়ানীবাজার থানার ওসি মো. শাহজালাল মুন্সী এক প্রেস ব্রিফিং-এ আজ রবিবার সাংবাদিকদের হত্যাকাণ্ডের পুরো তথ্য উপস্থাপন করেন।

তিনি বলেন, জাকির হোসেন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর জন্য ৫৫ লাখ টাকা ব্যবসায়ী সৈবনের কাছ থেকে নিয়েছে। তার শ্বশুড় আফতাবুর রহমান নিয়েছেন ৫ লাখ টাকা। ১৩ বছর পূর্বে ২০০৫ সালে আফতাবুর রহমানের সাথে পরিচয় এবং গভীর সম্পর্ক তৈরী হয় সৈবনের। এ নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক তৈরী হয়। সৈবন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য জাকিরের শ্বশুড় আফতাবুর রহমানের হাতে ৫ লাখ টাকা তুলে দেন। এসময় আফতাবুর রহমান বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে জাকিরের সাথে যোগাযোগ করার জন্য বলেন। বিভিন্ন জনের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্র পাঠানোর কথা বলে ব্যবসায়ী সৈবন টাকা নিয়ে জাকির দিয়েছেন সে বিষয়টি জাকির স্বীকার করেছে জানিয়ে ওসি শাহজালাল মুন্সী বলেন, ব্যবসায়ী সৈবনের কাছ থেকে ৫৫ লাখ টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করে। বিদেশ পাঠানোর সময় পেরিয়ে গেলে ব্যবসায়ী সৈবন টাকার জন্য চাপ দিলে জাকির তার সহযোগীর সাথে পরামর্শ করে তাকে হত্যার করার পরিকল্পনা নেয়। জাকির জানিয়েছে- তার সহযোগী বলে আমরাতো বিদেশ পাঠাতে পারবনা আবার টাকাও ফেরৎ দিতে পারবনা। তবে এক কাজ করা যায় সৈবনকে ডেকে এসে গলা টিপে হত্যা করে কোথায় ফেলে দেই। হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে সিলেট, ঢাকার বারিধারা ও বিয়ানীবাজারের জাকিরের শ্বশুড় বৈঠক হয়।

ঘটনার দিন গত ২৬ এপ্রিল সৈবনকে ডেকে সিলেট নেয় জাকির। আগের পরিকল্পনা মতো বিকাল সাড়ে ৫টায় তাকে রিসিভ করে রোজভিউ হোটেলের সামনে নিয়ে যায়। সেখানে আছরের নামাজ পড়েন ব্যবসায়ী সহিব উদ্দিন সৈবন। জায়গার কেনার আলোচনা তুলে একটি জায়গা দেখাতে শাহপরান নিয়ে যাওয়া হয়। গাড়িতে জাকিরের সাথে আরও একজন ছিলো। আগের ঠিক করা পেশার খুনীকে জায়গার মালিক সাজিয়ে আলোচনা করে আরও জায়গা দেখানোর কথা বলে গাড়ি তোলা হয়। শাহপরান, বটেশ্বর, খাদিমসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে সময়ক্ষেপন করে জাকিরসহ অন্যান্য ঘাতকরা। এরপর বাইপাস দিয়ে আসার সময় ব্যবসায়ী সৈবনকে গলা টিপে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়। এতে তিনি জোর চালালে জাকির দুই পা জাপটে ধরে। অন্য এক সহযোগী দুই হাত পেছনে নিয়ে ধরে ফেললে ভাড়া করা পেশাদারখুনীটি বুকে উপর উঠে গলায় ছুরি চালায়।

ওসি জানান, গাড়ি যে চালিয়েছিলো তাকে এক লাখ টাকা দিয়ে ভাড়া করে আসে জাকির। তার অপর সহযোগী পেশাদার খুনীটিকে ভাড়া করে। রাত ১০ টার দিকে হত্যা করার পর তারা বাইপান হয়ে বিয়ানীবাজারের দিকে আসতে তাকে। নির্জন জায়গা দেখে লাশ ফেলে দেয়। এরপর আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী বিয়ানীবাজারের দিকে আসার পথে শেওলা সেতুর উপর থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি ও গামছা এবং ব্যবসায়ী সৈবনের মোবাইল ও জুতা নদীতে ফেলে দেয়। একপ্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, মানিবেগ আমরা পাইনি, সে মানিবেগের কথা কিছু বলেনি। হয়তো সাথে থাকা অন্য কোন সহযোগী মানিবেগটি হাতিয়ে নেয়।

২৭ এপ্রিল লাশ উদ্ধারের পর প্রযুক্তির সাহায্যে জাকিরের অবস্থান সনাক্ত করে বিয়ানীবাজারের সড়ক ভাংনি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে ২৬ এপ্রিল দুইটি মোবাইল থেকে ব্যবসায়ী সৈবনের সাথে যোগাযোগ করে। ওই দিন আরও ছয়টি নম্বর থেকে যোগাযোগ করা হয় সৈবনের সাথে।

এক প্রশ্নের জবাবে ওসি শাহজালাল মুন্সী বলেন, ঘাতকরা যতই পরিকল্পনা করুক আলামত ঠিকই রেখে যায়। তারা হত্যাকান্ডের পূর্বে নিজের সবগুলো মোবাইল ঘটনাস্থল থেকে অনেক দূরে একটি জায়গায় অন করে রেখেছিলো।

শনিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি স্বীকারোক্তি দিয়েছে জাকির। তবে আদালতের রেকর্ড করা জবানবন্ধি এখানো থানায় আসেনি বলে তিনি জানান। হত্যা ব্যবহৃত গাড়িটি রেজু নামের এক ব্যবসায়ীর। তিনি আখালিয়া ঘাটের রনির গ্যারেজে মেরামত করার জন্য ১৪দিন পূর্বে দিয়েছিলেন। ব্যবসার কাজে সিলেটের বাইরে থাকায় তিনি গাড়িটি নেননি। এ সুযোগে রনির গ্যারেজের জায়গার মালিক জাকিরের চাচাতো ভাই দুলাল গাড়িটি নিয়ে নেয়।

ব্যবসায়ী সহিব উদ্দিন সৈবন হত্যাকাণ্ডের উপর ওসির প্রেস ব্রিফিংকালে উপস্থিত ছিলেন থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) জাহিদুল হক ও মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা সুরঞ্জিত দাস।

শেয়ার করুন