স্বাধীনতার বিলোপের আশঙ্কায় রিজভী

ভারতের সঙ্গে করা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাধীন বাংলাদেশ বিলোপের আশঙ্কা করছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী। তার দাবি, পুরো চুক্তিটাই হয়েছে গোপনে এবং এটির উদ্দেশ্য ক্ষমতা দখল।

রবিবার নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। তিনি চুক্তিটির বিস্তারিত প্রকাশেরও দাবি জানিয়েছেন।

রিজভী বলেন, ‘সকল জনমতকে উপেক্ষা করে আকষ্মিকভাবে বাংলাদেশ-ভারত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সরকার। এমনকি তাদের বাছাইকৃত লোক দিয়ে গঠিত একদলীয় জাতীয় সংসদে আলোচনা করারও প্রয়োজন বোধ করেনি।’

রিজভী এই চুক্তিটিকে আকস্মিক বললেও এর আলোচনা চলছে দুই বছর ধরেই। গত বছরের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় এ নিয়ে সমঝোতা সই হয়। আর দেশে ফিরে ওই বছরের ১১ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে এই সমঝোতার বিস্তারিত জানান প্রধানমন্ত্রী।

সেদিন শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে আমরা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করব। এর মধ্যে রয়েছে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে প্রশিক্ষণ ও আলোচনা।’

‘জ্ঞান, শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের শেষ নেই। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা বিভিন্ন কাঠামোগত সহযোগিতা, সেখানে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে আলোচনা সভা, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি সম্বলিত অনুষ্ঠান উদযাপন করা হবে। দুইদেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে শিক্ষা সফর, সামরিক প্রশিক্ষক এবং পর্যবেক্ষক বিনিময়, সামরিক সরঞ্জামাদি সংরক্ষণে পারস্পরিক সহযোগিতা, শান্তি রক্ষা বিষয়ক পর্যবেক্ষণ, ক্রীড়া ও দুঃসাহসিক কার্যক্রম পরিচালনা, দুর্যোগ ও বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও চিকিৎসা সহযোগিতা, দুই দেশের নৌবাহিনী জাহাজ ও বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজের সফর বিনিময় করবো। এছাড়াও আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা সমন্নিত টহল অনুশীলন করব।’

বেলারুশ, চীন, ফ্রান্স, কুয়েত, রাশিয়া, তুরস্ক এই ছয়টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত চুক্তি আছে বলেও সেদিন জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘সৌদি আরব, কাতার মালয়েশিয়া, প্যালেস্টাইন, ফিলিপাইন, সার্বিয়া, রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ তেরটি দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা বিষয়ে বিভিন্ন রকম সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি কার্যক্রম কিন্তু প্রক্রিয়াধীন আছে।’

ওই সমঝোতার এক বছর পর ১১ এপ্রিল ভারতে দুই দেশের মধ্যে এই চুক্তি হয়েছে। পরদিন বাংলাদেশের গণমাধ্যমে খবরটি এসেছে।

এর পরদিন বিএনপির পক্ষ থেকে দলটির মুখপাত্র বলেন, ‘প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে কি না, সেই সংশয় এখন বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।’

‘এই চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে বলে বিশিষ্টজনরা মনে করেন। ভারত আমাদের সবচেয়ে নিকটতম প্রতিবেশী। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের তিন দিক দিয়েই সীমান্ত রয়েছে। একই সঙ্গে রয়েছে সীমান্ত প্রতিযোগিতা। তাদের সঙ্গে সীমান্ত প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ায় দেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে।’

দেশের মানুষকে না জানিয়ে করা ‘দেশবিরোধী’ চুক্তির খবরে গোটা জাতি হতভম্ব ও চিন্তিত হয়ে পড়েছে বলেও দাবি করেন রিজভী। বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আসলেই নাচের পুতুলের ভূমিকাই পালন করছেন।’

আবারও ক্ষমতা দখল করতে দেশবিরোধী এই গোপন চুক্তি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন রিজভী। বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভিন দেশের এক্সটেনশন হতে দেয়া যাবে না। অবিলম্বে গোপন চুক্তি জনসমক্ষে প্রকাশ করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।’

‘খুলনায় রাষ্ট্রীয় তাণ্ডব চলছে’

মঙ্গলবার খুলনা সিটি করপোরেশনের ভোটকে সামনে রেখে সেখানে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ‘সন্ত্রাসী তাণ্ডব’ চলছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা।

‘ভোটারদের মধ্যে এক ভীতিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্ষমতাসীনদের দাপটে খুলনা মহানগর জুড়ে এখন শুধুই আতঙ্ক।’

‘ভোটাররা ভীতিমুক্ত পরিবেশে নির্বিঘ্নে ভোট দেয়া দূরে থাক এখন তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চরম হুমকির মধ্যে নিপতিত।’

নির্বাচন কমিশন সেখানে ‘নির্বিকার’ ও ‘নীরব দর্শক’ হয়ে গেছে অভিযোগ করে বিএনপির মুখপাত্র বলেন, ‘কমিশন জেগে থেকে ঘুমিয়ে থাকার ভান করছে। এই কারণেই খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের মাঝে কানাঘুষা চলছে নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশন সরকারের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বাস্তবায়ন করছে।’

খালেদাকে নিয়ে ‘ভয়াল ষড়যন্ত্রে’ সরকার

কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ করতে দেয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন রিজভী। একে সরকারের ‘কালো কাপড় ঘেরা গভীর অন্ধকারের মধ্যে এক ভয়াল ষড়যন্ত্রের অংশ’ হিসেবেও বর্ণনা করেন তিনি।

বিএনপি নেতা বলেন, ’১০ দিন ধরে পরিবারের কোনো সদস্যরা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না। পরিবারের স্বজনসহ আমরা দেশনেত্রীর শারীরিক অবস্থার কোনো খবর পাচ্ছি না। বিএনপির নেতাকর্মীসহ দেশবাসী বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন।’

আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য দেশি-বিদেশি চক্রান্তের মাধ্যমে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মাইনাস করার চক্রান্ত চলছে বলেও অভিযোগ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

খালেদা জিয়াকে বন্দী রেখে আগামী ‘একদলীয় ফ্যাসিবাদী নির্বাচন’ করার উদ্যোগ নিলে কঠিন প্রতিরোধে তা নস্যাৎ করারও ঘোষণা দেন রিজভী।

শেয়ার করুন