‘মহালুটের’ স্যাটেলাইটের সেবা পাবে না দেশ: মান্না

বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে নাখোশ নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তার দাবি, এই স্যাটেলাইটটি বানানো হয়েছে মহা লুটপাটের জন্য।

এক এগারোর সময় সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে ‘হাত মিলিয়ে’ দলবিরোধী কার্যক্রমের পর বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা জানেন না এই স্যাটেলাইট কত টাকায় বানানো হয়েছে। জনগণের জিজ্ঞাসার কথা বলে এই প্রশ্নের জবাব চেয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ সময় গত শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটা ১৪ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে মহাকাশের পথে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১।

স্বভাবতই দেশের প্রথম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে উচ্ছ্বসিত দেশবাসী। তবে বিএনপিপন্থীরা যে খুশি নন তা সামাজিক মাধ্যমে তাদের প্রতিক্রিয়াতেই স্পষ্ট। বিএনপি নেতারাও এই প্রকল্প নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলছেন। এর বাইরে নন সম্প্রতি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে তৃতীয় শক্তি হওয়ার ঘোষণা দিয়ে গঠন করা যুক্তফ্রন্টের শরিক মান্নাও।

তৃতীয় শক্তি হওয়ার বাসনায় সংগঠন গড়ে তুললেও বিএনপিপন্থীদের সঙ্গেই উঠাবসা করা এই নেতা রবিবার রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাব এক আলোচনায় বক্তব্য রাখছিলেন। শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ৫৭ তম মৃত্যুবার্ষিকীতে এর আয়োজন করে ‘জাতীয় স্মরণ মঞ্চ’ নামে বিএনপিপন্থি একটি সংগঠন।

মান্না বলেন, ‘স্যাটেলাইট আমাদের দরকার। কিন্তু এই স্যাটেলাইট কীভাবে হলো? সেটা কত টাকা দিয়ে বানানো হলো? সেটা জনগণ জানতে চায়।’

স্যাটেলাইটের ইজারা দেয়া দুটি সংস্থাকে এর মালিক মালিক প্রতিষ্ঠান আখ্যা দিয়ে নাগরিক ঐক্যের নেতা বলেন, ‘মহালুটের ব্যবস্থা করার জন্য এই স্যাটেলাইট বানানো হলো। ওই স্যাটেলাইটের সার্ভিস (সেবা) বাংলাদেশ নিতে পারবে না।’

বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে যেসব সাফল্য সামনে নিয়ে আসছে তার সব কটিকে নাকচ করেন মান্না। বলেন, ‘এখন বলা হচ্ছে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ, সাগর বিজয় করা হয়েছে, নীল অর্থনীতির কথা বলা হচ্ছে, গুণকীর্তন করা হচ্ছে। এসব প্রতারণা; মিথ্যার রাজত্ব চলছে। এসবের জন্য প্রতিবাদের সাহস দরকার।’

সারা দেশে মহাসমারহে লুটপাট হচ্ছে দাবি করে মান্না বলেন, ‘কিন্তু কথা বলার কোন সুযোগ নেই। ব্যাংক থেকে লক্ষ কোটি টাকা চুরি হলো, গভর্নর পদত্যাগ করলেন, জবাব দেয়ার দরকার লাগলো না। অথচ মাত্র দুই কোটি টাকার জন্য একজন জনপ্রিয় নেত্রীকে জেলে দেয়া হলো।’

নাগরিক ঐক্যের নেতা বলেন, ‘গাজীপুর সিটি নির্বাচনে বিএনপি জিতবে বলে নির্বাচন বন্ধ করে দেয়া হলো, খুলনায় দিনের বেলায় নেতাকর্মীদের হুমকি দেয়া হচ্ছে। এই হচ্ছে আমাদের দেশের গণতন্ত্র।’

সামনে নির্বাচনের আগে ‘ব্যাপক জাতীয় ঐক্য’ দরকার বলেও মনে করেন মান্না। বলেন, ‘কৃষক, শ্রমিকের মুক্তির কথা বলেন। লড়াই কিন্তু আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নয়। পুলিশ লীগের বিরদ্ধে করতে হবে। এটা মনে রাখতে হবে।’

‘লুটপাটের বাইরে রাজনীতি নাই’

আলোচনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এখন বাংলাদেশে যে রাজনীতি চলছে সেখানে জনগণের সেবার কথা বলা যাবে না। এখনকার রাজনীতি হচ্ছে লুটপাট করতে হবে, এর বাইরে কোন রাজনীতি নাই।

আওয়ামী লীগকে ‘বিদায় করে’ দেশের রাজনীতি কী হবে সেটা স্পষ্ট করা দরকার বলেও মন্তব্য করেন এই বিএনপি নেতা।

দেশের মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও শিক্ষা দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন খসরু। বলেন, ‘এটা করা গেলে মানুষের জীবন মান বেড়ে যাবে।… মানবসম্পদের উন্নয়ন সহজে করা সম্ভব হবে।’

বর্তমান সরকারের নয় বছলে মানুষের জীবন যাত্রার মান নয় শতাংশ কমে গেছে বলেও দাবি করেন খসরু। বলেন, ‘শিক্ষার মান নিচে নামানো হয়েছে, সেখানে মানবসম্পদ তৈরির কোন সুযোগ নেই। চার কোটির মতো শিক্ষিত বেকার, তারা চাকর পাচ্ছে না।’

খুলনায় ‘নিরপেক্ষ’ নির্বাচন হবে বলে কেউ কেউ বিশ্বাস করে না বলেও মনে করেন বিএনপি নেতা। বলেন, ‘বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিএনপির কর্মীদের তল্লাশি করছে, মোবাইল নম্বরে তাদের খুঁজছে।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মনিরুজ্জামান দেওয়ান মানিকের সভাপতিত্বে আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন কবি আব্দুল হাই শিকদার, মুক্তিযোদ্ধা ইসমাঈল হোসেন বেঙ্গল প্রমুখ।

শেয়ার করুন