খুলনায় জাল ভোটের মহা উৎসব

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাল ভোট দেয়ার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার পর একটি কেন্দ্রে ভোট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

বেলা ১১টার দিকে ২৪ নং ওয়ার্ডের সরকারি ইকবাল নগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই জাল ভোট দেয়ার ঘটনা ঘটে। পরে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এসে ভোট বন্ধ করে দেন।

এই কেন্দ্রে মোট সাতটি বুথ ছিল। আর সব বুথেই ভোট বন্ধ করে দেয়ার পর ব্যালট পেপার প্রিজাইডিং কর্মকর্তার কক্ষে নেয়া হয়।

ঘটনা শোনার পর বেলা ১২টার দিকে রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলীও ভোট কেন্দ্রে যান। তিনি জানান, যে ২৮৯টি কেন্দ্রে ভোট নেয়া হয়েছে, তার মধ্যে একটিতেই ভোট বন্ধ করা হয়েছে। বাকিগুলাতে উৎসবমুখর পরিবেশেই ভোট হচ্ছে।

বেলা ১১টার দিকে ওই কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্ট কাকলী বেগম বলেন, ‘যুবলীগের ৪০ থেকে ৫০ জন কেন্দ্রে ঢুকে সেখানে ব্যালট ছিনিয়ে নিয়ে জালভোট দিয়েছে।’

‘এক পর্যায়ে মেয়র পদে ব্যালট শেষ হয়ে যায়। পরে আমরা প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের কাছে গিয়েছি, কিন্তু তার রুম তালাবদ্ধ পাওয়া যায়।’

‘খবর পেয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আনিসুর রহমান ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি জালভোটের মুড়ি এবং প্রিজাইডিং কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে ভোট বন্ধ করেন।’

আনিসুর রহমান ভোটকেন্দ্রে আসার পর প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম তার ও গণমাধ্যম কর্মীদের জেরার মুখে পড়েন। নজরুল তার দায়িত্ব ছেড়ে ভোটকেন্দ্রের বাইরে গিয়েছিলেন জানানোর পর কেন তিনি এই কাজ করেছেন, সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি কেন্দ্রের বাইরে গিয়েছিলাম, এখানে কী হয়েছে জানি না।’

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা তখন তাকে প্রশ্ন রাখেন, ‘আপনি কেন বাইরে গেছেন? কাউকে কি দায়িত্ব দিয়ে গেছেন, পুলিশকে কি বলে গেছেন?’ প্রিজাইডিং কর্মকর্তা তখন কোনো জবাব দিতে পারেননি।

এই আচরণ দায়িত্বহীনতার পরিচয় কি না-গণমাধ্যমকর্মীদের এমন প্রশ্নে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি গিয়েছিলাম কাজেই, কিন্তু এখানে সমস্যা হচ্ছে তা জানি না, তাই পুলিশ ডাকিনি।’

এর আগে বেলা সাড়ে ১০টার দিকে আরও একটি কেন্দ্রে একটি বুথে নৌকা মার্কায় সিল মারার পর সেখানে ভোট বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে ওই বুথটি ছাড়া বাকি কেন্দ্রে ভোট চলছে। এই ঘটনাটি ঘটে ২২ নং ওয়ার্ডের ফাতিমা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে।

শেয়ার করুন