রাজীবের মৃত্যুর জন্য ‘কেউ দায়ী নয়’

রাজধানীতে দুই বাসের চাপায় হাত হারিয়ে প্রাণ হারানো রাজীবের হাসানের মৃত্যুর ঘটনায় বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনের কেউ দায় নিতে চাইছে না। বিআরটিসিটি বলছে, এই দুর্ঘটনায় তাদের বাসের কোনো দায় নেই। চাপা দিয়েছে স্বজন পরিবহন। আর স্বজন পরিবহনের আইনজীবী বলেছেন, ওই গাড়িটি তাদের না।

রাজীবের দুই ভাইকে কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশের বিরুদ্ধে বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনের আপিলের শুনানির বৃহস্পতিবার দুই পক্ষের আইনজীবীরা এমন দাবি করেন। শুনানি শেষে এ বিষয়ে আদেশের জন্য ২১ মে সময় নির্ধারণ করে সর্বোচ্চ আদালত।

গত ৮ মে বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ রাজীবের দুই ভাইকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক কোটি টাকা দেয়ার নির্দেশ দেন। এই ক্ষতিপূরণের অর্ধেক দিতে হবে বিআরটিসি এবং বাকি টাকা দেবে ‘স্বজন পরিবহন। আগামী এক মাসের মধ্যে অর্ধেক টাকা দেয়ার কথাও বলা হয় সেদিন।

হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে প্রথমে আপিল করে বিআরটিসি। পরে এতে যুক্ত হয় স্বজন পরিবহণকে।

শুনানিতে বিআরটিসির আইনজীবী এ বি এম বায়েজিদ বলেন, ‘আমরা ওই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী না। স্বজন পরিবহনের ওই গাড়িটি ওইদিন বাম দিক থেকে ওভারটেক করে এসে বিআরটিসি’র গাড়িটিকে ধাক্কা দেয়। এতে আমাদের দোষের কিছু না। অতএব, আমি দায়ী নাহলে ক্ষতিপূরণের টাকা কেন দেব?’

স্বজন পরিবহনের পক্ষের আইনজীবী পংকজ কুমার কুণ্ড বলেন, ‘ওই দিনের ঘটনায় স্বজন পরিবহন নামে যে গাড়িটি ছিল, সেটি স্বজন পরিবহন কোম্পানির গাড়ি না। ওই গাড়িটি এ কোম্পানিকে মাসে ছয় হাজার টাকা দিত। এ কারণে গাড়িটি স্বজন নামে দিয়ে চলত। আসাদুজ্জামান রাজু নামে একজন ওই গাড়ির মালিক।’

পরে রাজীবের ক্ষতিপূরণের পক্ষে কথা বলেন রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেন, সব মানুষের সচেতনতার স্বার্থে ক্ষতিপূরণ দেয়া উচিত।

বিচারক জানতে চান, রুল নিস্পত্তির আগেই কীভাবে ক্ষতিপূরণের আদেশ হয়। আইনজীবী বলেন, ‘এটা দিতে পারে।’ গত ৩ এপ্রিল বিকেলে কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারার সামনে বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনের একটি বাসের চাপা পরে হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হোসেনের। ১৬ এপ্রিল দিবাগত গভীর রাতে তিনি হাসপাতালে মারা যান।

গত ৪ এপ্রিল এই ঘটনায় রিট আবেদন করা হয় হাইকোর্টে। আর উচ্চ আদালতের আদেশে রাজীবের চিকিৎসার খরচ দেয় বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহন। তবে তার মৃত্যুর পর ক্ষতিপূরণের টাকা দিতে রাজি নয় তারা।

রাজীবের মৃত্যুর পর তার দুই ভাইয়ের করুণ কাহিনি গণমাধ্যমে আসে। বাবা-মা হারা দুই ভাইয়ের পড়াশোনার দায়িত্ব ছিল রাজীবের ওপর। তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি দুই ভাইয়ের জন্যই চাকরি করতেন।

রাজীবের দুই ভাইয়ের এই পরিস্থিতি জানান পর সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন সরকারের পক্ষ থেকে রাজীবের দুই ভাইয়ের শিক্ষা ও চাকরির নিশ্চয়তা দেন। তবে দুই কিশোর কওমি মাদ্রাসায় পড়ে বলে রাজীবের খালা সরকারি প্রতিষ্ঠানে তাদেরকে দিতে রাজি নন।

চলচ্চিত্র নায়ক অনন্ত জলিলও রাজীবের দুই ভাইয়ের দায়িত্ব নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে রাজীবের খালা জানিয়েছেন, তাদেরকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে কিছু ছবি ‍তুলে বিদায় করা হয়েছে। যদিও পরে অনন্ত জলিল এই কথাকে অসত্য দাবি করেছেন।

শেয়ার করুন