মাদক বিস্তারের রাঘববোয়াল ‘বদিরা’: বিএনপি

দেশে মাদকের বিস্তারের জন্য কক্সবাজারের টেকনাফে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির মতো লোকদেরকে দায়ী করেছে বিএনপি। পরিকল্পিতভাবেই দেশের যুব সমাজকে মাদকে আসক্ত করার অভিযোগও করেছে দলটি।

মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানে ‘চুনোপুটিদের’ ধরা হচ্ছে অভিযোগ করে ‘গডফাদারদের’ কেন ধরা হচ্ছে না, সেই প্রশ্নও তুলেছে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকাঠামোর বাইরে থাকা দেশে অন্যতম বৃহৎদলটি।

সোমবার বিএনপির মুখপাত্র রুহুল কবির রিজভী নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

গত ৪ মে থেকে সারাদেশে মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে। অভিযান শুরুর পর থেকে কথিত বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ৩৪ জন বেশি সন্দেজভাজন মাদকের কারবারি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত দুই রাতেই ২১ জন এবং পাঁচ রাতে ৩১ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে।

প্রতিটি বন্দুকযুদ্ধের কাহিনি একই রকম। ‘মাদকের কারবারি’কে নিয়ে অভিযানে বের হলে গুলি করে তাদের সহযোগীরা। আর গোলাগুলির এক পর্যায়ে নিহত হন সন্দেহভাজন মাদকের কারবারি। কখনও কখনও পুলিশের এক-দুই জন সদস্য আহতও হন।

সোমবার রাতে এক ইফতারের আয়োজনে অভিযানে প্রাণহানির তীব্র সমালোচনা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি মাদকের বিস্তারের জন্য সংসদ সদস্য বদি ও তার মতো লোকদের দায়ী করে তাদের বিরুদ্ধে আগে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

রিজভীও মনে করেন, মাদকের বিস্তারের জন্য ‘বদির মতো রাঘববোয়ালরা’ দায়ী।

বর্তমান সরকারের সাড়ে নয় বছরেই দেশ মাদকে ছেয়ে গেছে অভিযোগ করে বিএনপির মুখপাত্র বলেন, ‘গোটা যুব সমাজকে ধ্বংস করতে পরিকল্পিতভাবে মাদকের বিস্তার ঘটানো হয়েছে। এর পেছনে দায়ী ব্যক্তিরা হলেন সরকারদলীয় এমপি বদির মতো রাঘববোয়ালরা। যারা মাদক ব্যবসার মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।’

‘সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীরা আবার তাদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করতে দেখা গেছে। গণমাধ্যমে তো ধারাবাহিকভাবে জেলাওয়ারি রাঘব বোয়ালদের নাম প্রকাশিত হয়েছে।’

‘এমনকি পুলিশের কিছু উচ্চ পর্যায়ের লোকেরাও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, সেগুলো গণমাধ্যমে এসেছে।’
মাদকবিরোধী সাম্প্রতিক অভিযানের ‘অন্য উদ্দেশ্য’ আছে বলেও মনে করেন রিজভী। তার দাবি, বিরোধী দলের মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের নেতা-কর্মীদেরকে গ্রেপ্তারের নামে মেরে ফেলা এই অভিযানের উদ্দেশ্য।

এই অভিযানে মাদকের গডফাদারদের নয়, চুনোপুঁটিদের ধরা হচ্ছে দাবি করে রিজভী বলেন, ‘মাদকের আসল গডফাদারদের ধরছেন না কেন? সেখানেই আপনাদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার হয়ে যায়।’

‘প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে নানা চ্যানেলে মাদক এসে ঢুকছে বাংলাদেশে। এ চ্যানেলগুলোর উৎস মুখ বন্ধ করতে পারেনি কেন সরকার?’

শেয়ার করুন