‘গুমের’ তালিকায় ছাত্রলীগ নেতা, রেলমন্ত্রীর ‘আস্থাভাজন’

গত কয়েক বছরে যারা ‘গুম’ হয়েছেন তাদের একজন ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের একটি থানা শাখার সভাপতি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহচর কুমিল্লার এক নেতার ছেলেকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

আন্তর্জাতিক ‘গুম সপ্তাহ’ উপলক্ষে শনিবার সকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘মায়ের ডাক’ এর উদ্যোগে এক মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে যোগ দেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাও। তিনিই এসব তথ্য দেন।

মানববন্ধনে ঈদের আগেই ‘গুম’ হওয়া মানুষদের পরিবারে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে ছেলের সন্ধান দেয়ার দাবিতে ছবি নিয়ে অংশ নেয়া এক মায়ের কথা উল্লেখ করে মান্না বলেন, ‘এখানে ছাত্রলীগের তপুর মা সালেহা বেগম রয়েছেন। তিনি প্রায়ই বলেন, আমরা তো আওয়ামী লীগ করি, আমার পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগে ভোট দেয় এবং আমার ছেলে রামপুরা থানা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিল। তাকে কেন গুম করা হলো? এর জবাব কি প্রধানমন্ত্রী জানেন?’

‘এখানে যত পরিবার রয়েছে তাদের কেউ মিছিল করতে গিয়ে গাড়ি ভাঙেনি, সরকারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কোনো বক্তব্য দেয়নি। তারপরও তারা গুম হয়েছে।’

‘বঙ্গবন্ধুর একান্ত সহচর হিসেবে পরিচিত কুমিল্লার মতিনের ছেলে, সেও যুবলীগ করতো। আমাদের রেলমন্ত্রীর অত্যন্ত আস্থাভাজন ছিল। তাকেও গুম করা হয়েছে।’

নিখোঁজ সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন মারুফা ইসলাম ফেরদৌসীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন, জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মঞ্জুর হোসেন ঈসা।

উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল সম্পাদক ফয়জুল হাকিম লালাসহ নাগরিক সমাজের সদস্যরা।

 

যাদের হদিস নেই সেই ব্যক্তিদের মধ্যে বক্তব্য দেন সাইফুল রহমান সজিবের বাবা শফিকুর রহমান, আব্দুল কাদের মাসুমের মা আয়েশা আলী, তরিকুল ইসলাম তারার স্ত্রী শামসুন্নাহার বেবী, নুর আলমের স্ত্রী রিনা আলম, মাহবুব রহমান সুজনের ভাই জাহিদ খান, কাজী ফরহাদের ভাই আমান, ছাত্রলীগ রামপুরা থানার সভাপতি এস এম মোয়াজ্জেম হোসেন তপুর মা সালেহা বেগম, কাওসারের শিশু কন্যা লামিয়া আক্তার মীম, মাহবুবুর রহমান রিপনের ভাই মোস্তাফিজুর রহমান শিপন, আমিনুল ইসলাম জাকিরের ভাই আলমগীর হোসেন আলিক, আদনান চৌধুরীর মা কানিজ ফাতেমা-সহ প্রমুখ।

উপস্থিত ছিলেন গুম পরিবারের পিন্টুর ভাই মো. ইসলাম রেজা, গুম আসাদুজ্জামান রানা, গুম জাহিদুল করিম তানভীর, গুম আলামীনের পরিবারের সদস্যরা।

মান্না বলেন, ‘প্রতি বছরই এই জায়গায় এসে মায়েদের কান্নার সঙ্গে সঙ্গে আমাদেরও কাঁদতে হয়। আমাদের কান্না প্রধানমন্ত্রীর চোখে পড়ে না। কারণ, গুম হওয়া স্বজনদের কারো সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কোনো আত্মীয়তা নেই।’

মাদকবিরোধী অভিযানে গুলি করে হত্যারও সমালোচনা করেন নাগরিক ঐক্যের নেতা। বলেন, ‘যখন আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে ঠিক সেই সময় মাদক নিয়ন্ত্রণের নামে প্রতিদিন ক্রসফায়ারে সাধারণ মানুষদেরকে হত্যা করা হচ্ছে। মাদক সম্রাটদের পক্ষে সাফাই গাইছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে তারা গ্রেপ্তার হবে কীভাবে?’

‘রমজান মাস নাকি সংযমের মাস। এই মাসেই মানুষ হত্যায় নতুন করে মেতে উঠেছে সরকার।’

আগামী নির্বাচনই সব কিছুর লক্ষ্য দাবি করে মান্না বলেন, ‘বিনা চ্যালেঞ্জে আবার ক্ষমতায় যাবার জন্য এসব করছে সরকার। কিন্তু দেশবাসী আর ছাড় দেবে না। যেকোন মূল্যে এই সরকারকে হটিয়ে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

শেয়ার করুন