জামিন পেলেন আসিফ

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম কেশব রায় চৌধুরী ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন মঞ্জুরের আদেশ দেন।

এর আগে গত ৬ জুন আসিফের ৫ দিনের রিমান্ড ও জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে গীতিকার, সুরকার ও গায়ক শফিক তুহিনের মামলায় কারাগারে পাঠান আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের উপ-পরিদর্শক প্রলয় রায় এ রিমান্ড আবেদন করেন।

গতকাল রোববারও আসিফের জামিনের আবেদন করা হয়। কিন্তু ওইদিন আবেদনের শুনানি না করে তা প্রত্যাহার করা হয়। সোমবার জামিনের আবেদনের ওপর বেলা পৌনে ১২টায় শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আসামি পক্ষে আইনজীবী ওমর ফারুক শুনানি করেন।

তিনি শুনানিতে বলেন, এজাহারে আসামির বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার কোনো সুস্পষ্ট অভিযোগ নেই। এমন অভিযোগে ভিত্তিতে একজন জনপ্রিয় গায়ককে কারাগারে রাখা বেআইনি। এ ছাড়া মামলার যিনি এজাহারকারী তিনিই প্রথম অনলাইন লাইভে আসেন, আসামি আসেন এরপর। আসামি অসুস্থ। তাই কারাবাস দীর্ঘস্থায়ী হলে তার জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। আর তিনি যেহেতু পরিচিত মুখ তাই জামিন পেলে পলাতক হওয়ার কোনো সম্ভবনা নেই।

এরপর বিচারক এজাহারকারীর পক্ষের কোনো আইনজীবী আছেন কি না খোঁজ করেন। কিন্তু কোনো আইনজীবী উপস্থিত নেই নিশ্চিত হওয়ার পর বিচারক বলেন, সংগীত আমাদের চিত্ত বিনোদনের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। এ মাধ্যমের জনপ্রিয় ব্যক্তিরা নিজেদের মধ্যে বিবাদে জড়িয়ে থাকুক তা আমরা চাই না। আশা করি, সমস্যা মিটে যাবে। এরপর তিনি ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় মামলায় প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া পর্যন্ত জামিন মঞ্জুরের আদেশ দেন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে গীতিকার, সুরকার ও গায়ক শফিক তুহিনের করা তেজগাঁও থানার মামলায় গত ৫ জুন রাতে গ্রেপ্তার হন আসিফ আকবর। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দল আসিফকে মগবাজারে তার অফিস থেকে গ্রেপ্তার করে। মামলায় আসিফ ছাড়া আরো চার-পাঁচজন অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ১ জুন রাত ৯টার দিকে চ্যানেল ২৪ এর সার্চ লাইট নামের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে শফিক তুহিন জানতে পারেন, আসিফ আকবর তার অনুমতি ছাড়া তার সংগীতকর্মসহ অন্যান্য গীতিকার, সুরকার ও শিল্পীদের ৬১৭টি গান সবার অজান্তে বিক্রি করেছেন। বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে জানা যায়, আসিফ আকবর আর্ব এন্টারটেইনমেন্টের চেয়ারম্যান হিসেবে অন মোবাইল প্রাইভেট লিমিটেড কনটেন্ট প্রোভাইডার, নেক্সনেট লিমিটেড গাক মিডিয়া বাংলাদেশ লিমিটেড ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গানগুলো ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে ট্রু-টিউন, ওয়াপ-২, রিংটোন, পিআরবিটি, ফুলট্রেক, ওয়াল পেপার, অ্যানিমেশন, থ্রি-জি কন্টেন্ট ইত্যাদি হিসেবে বাণিজ্যিক ব্যবহার করে অসাদুভাবে ও প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।

এরপর শফিক তুহিন গত ২ জুন রাত ২টা ২২ মিনিটে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে অনুমোদন ছাড়া গান বিক্রির এই ঘটনা উল্লেখ করে একটি পোস্ট দেন। তার ওই পোস্টের নিচে আসিফ আকবর নিজের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে অশালীন মন্তব্য ও হুমকি দেন। পরের লাইভ ভিডিওতে আসিফ অবমাননাকর, অশালীন ও মিথ্যা-বানোয়াট বক্তব্য দেন। এ ছাড়া শফিক তুহিনকে শায়েস্তা করবেন বলে হুমকি দেন। এতে শফিক তুহিনের মানহানি হয়েছে।

শেয়ার করুন